ক্ষোভ থেকেই ২০২০ সালের বাফুফে সভাপতি নির্বাচনে লড়বেন রুহুল আমিন তরফদার

বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) অপেশাদিরত্বকে আবারও আলোচনায় আনলেন বাংলাদেশ জেলা ও বিভাগীয় ফুটবল এ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিব ও সাইফ পাওয়ারটেকের মালিক তরফদার মোঃ রুহুল আমিন। গতকাল শনিবার মহাখালীর কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তরফদার মোঃ রুহুল আমিন বলেন,

জেএফএ কাপ মহিলা ফুটবল সেমিফাইনালে বাফুফের অদূরদর্শিতা প্রকট আকারে উপস্থাপিত হয়েছে, জেএফএ কাপের বাইলজে উল্লেখ আছে কোন খেলোয়াড় দুইবারের বেশি টুর্নামেন্ট খেলতে পারবে না। এটি বাফুফের আগে থেকেই নজরে আনা উচিত ছিল। দ্বিতীয়ত ময়মনসিংহের আবেদনের পর যাচাই বাছাই করে ঠাকুরগাঁওকে আগেই অবহিত করা উচিত ছিল যে তারা অযোগ্য ঘোষিত হয়েছে। একটি দল মাঠে আসার পর তাদের ফাইনালে খেলার অযোগ্য ঘোষণা বাফুফের অদক্ষতারই প্রমাণ। একই সঙ্গে দুঃখজনক ও লজ্জার। এছাড়া এটি মেয়েদের ফুটবল। কোমলমতি মেয়েদের মনে আঘাত দিয়ে দেশের মহিলা ফুটবল অঙ্গনে একটি কালো দাগ এঁকে দিল বাফুফে। এটা চরম অদক্ষতার পরিচয়। নিন্দনীয় অপরাধ।

বাফুফের ২০২০ সালের অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচন সম্পর্কে তরফদার রুহুল আমিন বলেন,

আমি বাংলাদেশ জেলা ও বিভাগীয় ফুটবল এ্যাসোসিয়েশন এবং বাংলাদেশ ফুটবল ক্লাব এ্যাসোসিয়েশনের মনোনীত প্রার্থী এবং বাফুফের সভাপতি হিসেবে এবার নির্বাচন করতে চাই। যা ইতোমধ্যেই ঘোষিত হয়েছে। ক্রীড়াঙ্গন তথা ফুটবল অঙ্গনের কারও কাছে এটা অজানা নয়। আমি যখন ফুটবল অঙ্গনে অর্থ ব্যয় করা শুরু করলাম দেশের ফুটবল উন্নয়নের জন্য তখন থেকেই আমি বাফুফের আক্রোশের শিকারে পরিণত হলাম । বিনা কারণে বিনা নোটিসে সাইফ পাওয়ারটেকের সঙ্গে বাফুফের চুক্তি তিন বছর হলেও এক বছর পরই বাতিল করে দেয়া হয়। যেখানে অর্থ সঙ্কটে খাবি খাচ্ছে দেশের ফুটবল। সঠিক দিক নির্দেশনার অভাবে পথ হারাচ্ছে ফুটবল সেখানে আমাকে কোণঠাসা করতে গিয়ে বাতিল করা হয়েছে স্পন্সর চুক্তি। কারণ বাফুফেকে মোটা অঙ্কের স্পন্সর দিয়ে আমি যাতে আর আলোচনায় না থাকতে পারি এটাই তাদের উদ্দেশ্য যা হীনম্মন্নতারই পরিচয় বহন করে বলে আমি মনে করি।

পাশাপাশি স্পন্সর বাতিল করে দেশের ফুটবলের ক্ষতি করেছে বাফুফের বর্তমান কমিটি। এতে আরেকটা বিষয় পরিষ্কার তাদের কাছে দেশের ফুটবল এগিয়ে নেয়া বা উন্নয়ন বড় নয়। ব্যর্থতার বোঝা মাথায় নিয়েও গদিতে আঁকড়ে থাকাই আসল লক্ষ্য। গদিতে থেকে পুনরায় নির্বাচন করার পাঁয়তারা চালাচ্ছে।

            বর্তমান সভাপতি কাজী সালাহউদ্দিন

স্পন্সর বাতিল করায় আমি আইনী লড়াইয়ে যেতে পারতাম। কিন্তু ফুটবলের মঙ্গলের কথা চিন্তা করেই তা করিনি। ফুটবল ভালবাসি। আর জনপ্রিয় এই খেলাকে হৃদয়ে স্থান দিয়েছি বলেই মৃতপ্রায় ফুটবলকে জাগিয়ে তুলতে ফুটবলের আসন্ন নির্বাচনে আমি সভাপতি পদে প্রার্থী হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। দেশের প্রায় সকল ফুটবলপ্রেমী সংগঠক আমার সঙ্গে আছেন এবং থাকবেন বলে বিশ্বাস করি। ভাওতাবাজদের দিন শেষ। প্রায় একযুগ মসনদে থেকে বর্তমান কমিটি ফুটবলের অগ্রগতি দূরের কথা ফিফা র‌্যাঙ্কিংটাও ধরে রাখতে পারেনি। ধাপে ধাপে অবনমিত হয়ে এখন প্রায় তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে। এতেও তাদের লজ্জা হয় না। লজ্জা থাকলে জাতির কাছে ক্ষমা চেয়ে এতদিনে তাদের চলে যাওয়া উচিত ছিল। কিন্তু যাওয়া দূরের কথা। আবারও নির্বাচন করতে চাচ্ছে ক্ষমতালিপ্সুর দল। এমটাই শোনা যাচ্ছে। অবশ্য বর্তমান কমিটিকে চরম ব্যর্থ বলার আগে আরেকটি বিষয় উল্লেখ না করলেই নয়। আর তা হচ্ছে যাদের কোন অর্জন বা সাফল্যই নেই তাদের আবার ব্যর্থতা কিসের। তাদের নামের পাশে সাফল্য থাকলে ব্যর্থ কথাটা মানাত।

রুহুল আমিন আরো বলেন,

বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনে বিপিএল কমিটি কর্তৃক ঘোষিত ২০ লাখ টাকা অংশগ্রহণ মানির ব্যাপারে তরফদার রুহুল আমিন বলেন, ২০১৫-১৬ মৌসুমে সাইফ পাওয়ারটেক ৪ কোটি টাকায় বিপিএলের টাইটেল স্পন্সর হয়েছিল। ক্লাবগুলোকে ইতিহাসে নজিরবিহীন ৪০ লাখ টাকা অংশগ্রহণ অর্থ দেয়া হয়েছিল। আমরা শুনেছি বর্তমান স্পন্সরের কাছে বিপিএলসহ অন্য ফুটবল লীগগুলোকেও বিক্রি করে দেয়া হয়েছে। ফুটবলের মূল্যমান ও ভাবমূর্তি বাফুফে কোথায় নিয়ে ঠেকিয়েছি তা দিবালোকের মতো পরিষ্কার। প্রায় এক বছর ধরে ফুটবল মৌসুম চালিয়েছে বাফুফে। দেশের ৬টি ভেন্যুতে খেলিয়ে ক্লাবগুলোকে ২০ লাখ টাকা অংশগ্রহণ অর্থ দেয়ার বিধান বা কথা রয়েছে। সেই প্রতিশ্রুত অর্থ দেয়ার তারিখ ঘোষণা করেও ক্লাবগুলোর হাতে অদ্যাবধি চেক তুলে দেয়নি ফুটবল ফেডারেশন। এতে আবারও প্রমাণ হলো যে, কথা দিয়ে কথা না রাখাই বাফুফের কাজ। এটা যেন নিয়মে পরিণত করে ফেলেছে তারা।