অনন্য সাকিবে ডুবলো আফগানিস্তান

সাউদাম্পটনে আফগানিস্তানকে ৬২ রানে হারিয়েছে বাংলাদেশ।

১০ – ১ – ২৯ – ৫ ; সাকিবের আজকের স্পেল। একের পর এক রেকর্ড গড়েই চলেছেন তিনি। প্রতিনিয়ত নিজেকে নিয়ে যাচ্ছেন অনন্য উচ্চতায়।

প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে বিশ্বকাপ ইতিহাসে ১০০০+ রান এবং ৩০+ উইকেট নেওয়ার অনন্য কীর্তি গড়েছেন সাকিব আল হাসান।

২৬৩ রানের টার্গেটে খেলতে নেমে দারুণ শুরু করেছিল আফগানরা। ১০ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে ৪৮ রান করে আফগানিস্তান। কিন্তু ১১ তম ওভারে এসেই ৫ম বলেই ২৪ রান করা রহমত শাহের উইকেট তুলে নেন সাকিব।

২১ তম ওভারে দলীয় ৭৯ রানে শাহিদীর উইকেট তুলে নেন মোসাদ্দেক হোসেন।

এরপর আফগানদের রান না দিলেও উইকেট ফেলতে পারছিলো না বাংলাদেশের বোলাররা। ২৯ তম ওভারে এসে দলীয় ১০৪ রানে জোড়া আঘাত হানেন সাকিব। ৪৭ রান করা গুলবাদিন নাইব এবং ০ রানে মোহাম্মদ নবীকে ফেরান সাজঘরে।

দলীয় ১১৭ রানে তুলে নেন আসগর আফগানের উইকেট। লিটনের দূর্দান্ত এক থ্রোতে দ্রুতই ফিরেন ১১ রান করা ইকরামও।

সপ্তম উইকেটে ৫৬ রানের জুটি গড়েন শেনোয়ারী – নাজিবুল্লাহ জুটি। ঠিক তখনই আবার ব্রেক থ্রু দেন সাকিব। প্রথম বাংলাদেশি ক্রিকেটার হিসেবে বিশ্বকাপে ৫ উইকেট শিকার করার কীর্তি গড়েন সুপার সাকিব।

এরপর মোস্তাফিজ দুটি এবং সাইফউদ্দিন দুটি উইকেট তুলে নিলে ৪৭ ওভারে ২০০ রানে থামে আফগানদের ইনিংস।

রোজ বোলে টসে জিতে বাংলাদেশকে আগে ব্যাটিংয়ের আমন্ত্রণ জানিয়েছিল আফগান দলপতি গুলবাদিন নাইব।

সবাইকে চমক দিয়ে এদিন তামিমের সাথে ওপেনিংয়ে আসেন লিটন দাস। শুরুটা মন্দ হয়নি বাংলাদেশের। কিন্তু মুজিবের বলে ১৬ রান করে শাহিদীর হাতে ক্যাচ দিয়ে আউট হন লিটন। তবে এ আউট নিয়ে তৈরি হয়েছে বিতর্ক। মাঠের আম্পায়াররা থার্ড আম্পায়ারের কাছে গেলে রিপ্লেতে স্পষ্ট আউট বোঝা না গেলেও মাঠের আম্পায়ারদের সফট সিগনালের উপর ভিত্তি করে আউট দেন থার্ড আম্পায়ার আলিম দার।

পুরো ইনিংস জুড়ে আম্পায়ারদের বিতর্কিত সিদ্ধান্ত অবাক করেছে ক্রিকেট বিশ্বকে।

দ্বিতীয় উইকেটে তামিম – সাকিব পার্টনারশিপে আসে ৫৯ রান। তামিম ৫৩ বলে ৩৬ রান করে নবীর বলে বোল্ড আউট হলেও বিশ্বকাপে নিজের ৩য় ফিফটি তুলে নেন দুরন্ত ফর্মে থাকা সাকিব। যদিও এর আগে সাকিবকে আউট দিয়েছিলেন আম্পায়ার। কিন্তু রিভিউ নিয়ে সে যাত্রায় বেঁচে যায় সাকিব।

১৯ তম ক্রিকেটার এবং প্রথম বাংলাদেশী হিসেবে আজকে ওয়ানডে বিশ্বকাপে ১০০০ রানের মাইলফলক স্পর্শ করলেন সাকিব আল হাসান।

সেই সাথে চলতি বিশ্বকাপে সেরা রান সংগ্রাহকের তালিকায় আবারো ১ নম্বরে উঠে এসেছেন বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিবের সংগ্রহ এখন ৪৭৬ রান।

৫১ রান করে মুজিবের বলে ফিরেছেন সাকিব। ৩ রান করে আরেক বিতর্কিত সিদ্ধান্তে এলবিডাব্লিউ হয়ে মুজিবের বলেই ফিরেছেন সৌম্য সরকার।

পঞ্চম উইকেটে ৫৬ রান আসে মুশফিক – মাহমুদুল্লাহ জুটি থেকে। ২৭ রান করে নাইবের বলে নবীর হাত ক্যাচ আউট হন মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ।

আগের ম্যাচে অপরাজিত শতক পাওয়া মুশফিকের ব্যাক টু ব্যাক সেঞ্চুরি পাওয়া হয়নি অল্পের জন্য। দলীয় সর্বোচ্চ ৮৩ করে দাওলত জাদরানের বলে আউট হয়েছেন তিনি।

মোসাদ্দেকের ২৪ বলে ৩৫ রানের ইনিংসে ২৫০ পেরিয়েছে বাংলাদেশ।

৫০ ওভারে ৭ উইকেট হারিয়ে ২৬২ রান করে বাংলাদেশ।

আফগানিস্তানের সবচেয়ে সফল বোলার মুজিব। ১০ ওভার বল করে মাত্র ৩৯ রান দিয়ে ৩ উইকেট পেয়েছেন তিনি।

এছাড়া নাইব ২ টি, নবী, দওলত জাদরান ১ টি করে উইকেট নেন। ১০ ওভারে ৫২ রান দিয়ে উইকেট শূন্য ছিল রশিদ খান।

Share:

Author: Tonmoy Bhowmick