একজন দেশপ্রেমিক বুদ্ধিদীপ্ত জামাল ভূঁইয়া; বাংলার ফুটবল অধিনায়ক

জামাল ভুঁইয়া ডেনমার্কের পরিবেশে বেড়ে উঠা এবং সেখানেই ফুটবল ক্যারিয়ার শুরু করার পর সিন্ধান্ত নিলেন নিজের বাবার দেশ বাংলাদেশের হয়ে খেলবেন।

 

 

যোগাযোগ করলেন তখনকার বাংলাদেশের কোচ লোডভিক ডি ক্রুইফের সঙ্গে। চলে এলেন ঢাকায়। প্রথমে এদেশের গরম আবহাওয়া এবং খাবারের সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নিতে পারছিলেননা একদমই। তবে তিনি হালও ছাড়েননি। কঠোর পরিশ্রম আর একাগ্রতায় ঠিকই জায়গা করে নিলেন ২০১৩ সাফের বাংলাদেশ ফুটবল দলে।

২০১৪ সালে ডেনমার্কের হেলেরুপ আইকে ক্লাব ছেড়ে যোগ দেন শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাবে। দুই বছর সেখানে কাটিয়ে শেখ রাসেল ক্লাবে যোগ দেন। এক বছর সেখানে খেলে এখন তিনি নতুন দল সাইফ স্পোর্টিং ক্লাবের অধিনায়ক হিসেবে প্রায় ১০ ভাগের এক ভাগ বেতনে খেলেন।

 

 

২০১৩ থেকে এখন পর্যন্ত জাতীয় দল ও অনূর্ধ্ব-২৩ দলে জামাল ভুঁইয়াই একমাত্র ফুটবলার যিনি ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার হিসেবে দাপটের সাথে নিজের জায়গাটি ধরে রেখেছেন।

২০১৮’তে এশিয়ান গেমসের ইতিহাসের প্রথমবারের মত কাতারের বিপক্ষে শেষ মিনিটে গোল করে বাংলাদেশকে নিয়ে যান দ্বিতীয় রাউন্ডে। তাছাড়াও ২০১৫ বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপে হয়েছেন সেরা ফুটবলার।

জামাল ভুঁইয়া ও কোচ জেমি ডে জুটি বাংলাদেশ ফুটবলকে বদলে দিতে শুরু করেছেন ২০১৮ সাল থেকেই। ২০১৮’তে এশিয়ান গেমসের দ্বিতীয় রাউন্ডে উঠা, সাফ ফুটবলে গ্রুপে দুটি ম্যাচ জিতেও দুর্ভাগ্যজনকভাবে সেমিতে উঠতে না পারা, বঙ্গবন্ধু কাপের সেমিফাইনালে খেলা এবং বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের প্রথম রাউন্ডের কঠিন চ্যালেঞ্জ জিতে পরের রাউন্ডে পা রাখা সবকিছুই বলে দিচ্ছে জেমি-জামাল জুটি সফলতার পথে রেখেছে পথ হারানো, রঙ হারানো বাংলাদেশ ফুটবলকে। এখন সময় আরো সামনে এগোনোর।

 

 

ডিফেন্সিভ মিডে খেলেন বলে তার খেলাটা খুব বেশি চোখে পড়েনা। কিন্তু মাঠে রক্ষণ ও মধ্যমাঠে দারুণ পারফর্মেন্স করে যান। এই যেমন লাওসের মাঠে বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের প্রথম লেগের ম্যাচে রবিউলের জয়সূচক গোলের এ্যাসিস্টটি এসেছে জামালের পা থেকে।

এই জামাল ভুঁইয়াই এখন বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক। তার পেশাদারিত্ব, দেশের প্রতি ডেডিকেশন কিংবা ফুটবল জ্ঞান সবই অসাধারণ।

তাই বাংলাদেশ গর্ব করে বলতেই পারে অধিনায়কের আর্মব্যান্ডটা সঠিকজনের বাহুতেই বাঁধতে পেরেছে।