একজন লিজেন্ড মাহেলা জয়াবর্ধনে।

১৯৯৭ সালের  আগষ্ট অভিষেক হওয়ার পর থেকেই হয়ে উঠেছিলেন শ্রীলঙ্কার ব্যাটিং স্তম্ভ। টেস্ট, ওয়ানডে কিংবা হালের টি২০ তিন ফরম্যাটেই ছিলেন সাবলীল। ক্রিকেটের তিন ফরম্যাটেই সেঞ্চুরির কীর্তি রয়েছে তার। তিন ফরম্যাটেই দেশকে দিয়েছেন নেতৃত্ব।

ওয়ানডে এবং টেস্টে মাত্র যে সাত জন ক্রিকেটার ১০ হাজার + রান করেছেন তাদের একজন মাহেলা জয়াবর্ধনে । ক্যারিয়ারে করেছেন ২৫৯৫৭ রান। কালেভদ্রে মিডিয়াম পেস বোলিং করে ১৪ উইকেটও আছে ঝুলিতে। শ্রীলঙ্কার হয়ে সর্বোচ্চ ৪৪৮ ম্যাচ খেলার রেকর্ড তার দখলে। শ্রীলঙ্কার হয়ে ২৪১ ম্যাচ জিতেছেন মাহেলা, যা রিকি পন্টিং(২৬২) এর পর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। ডানহাতি ব্যাটসম্যানে হিসেবে টেস্টে সর্বোচ্চ ৩৭৪(সব মিলিয়ে চতুর্থ) রানের ইনিংসটি তার দখলে।

 

৩০ গজ বৃত্তের মধ্যে সেরা ফিল্ডারদের একজন ছিলেন তিনি। শ্রীলঙ্কার হয়ে রেকর্ড ২১৮ টি ক্যাচ তার। ১৯৯৯ সালের পর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সবচেয়ে বেশি রান আউট তার দখলে। মুত্তিয়া মুরালিধরন এর সাথে দারুন সমন্বয়ে আউট করেছেন একাধিক ব্যাটসম্যানকে।

২০০৬ সালে কলম্বো টেস্টে দক্ষিন আফ্রিকার বিপক্ষে তৃতীয় উইকেটে কুমার সাঙ্গাকারাকে নিয়ে ৬২৪ রানের জুটি যেকোনো উইকেটে সর্বোচ্চ রানের জুটি হিসেবে এখন ও সবার শীর্ষে।

২০০৬ সালে আইসিসি তাকে বছরের সেরা অধিনায়ক হিসেবে ভূষিত করে। ২০০৭ সালে হন বর্ষসেরা টেস্ট ক্রিকেটার। ২০১১ সালে ফাইনালে অনবদ্য ১০৩ রানের ইনিংস খেলেও পড়াজিত হতে হয়েছিল। ২০১৪ সালে শ্রীলঙ্কার হয়ে জিতেছেন টি২০ বিশ্বকাপ।

অবসরের পর কোচিং ক্যারিয়ারে মনযোগী হয়েছেন মাহেলা জয়াবর্ধনে। বিশ্বের বিভিন্ন ফ্যাঞ্চাজি ভিত্তিক টুর্নামেন্টে কোচিং করছেন তিনি। সর্বশেষ তার অধীনেই আইপিএল চ্যাম্পিয়ন হয়েছে মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স ।

একনজরে জয়াবর্ধনের ক্যারিয়ার-

টেস্টঃ
ম্যাচ- ১৪৯
ইনিংস – ২৫২
রান- ১১৮১৪
গড়- ৪৯.৮৪
শতক/অর্ধশতক- ৩৪/৫০
সর্বোচ্চ- ৩৭৪

ওয়ানডে-
ম্যাচ- ৪৪৮
ইনিংস- ৪১৮
রান- ১২৬৫০
গড়- ৩৩.৩৭
শতক/অর্ধশতক- ১৯/৭৭
সর্বোচ্চ- ১৪৪

টি-টোয়েন্টি-
ম্যাচ- ৫৫
ইনিংস- ৫৫
রান- ১৪৯৩
গড়- ৩১.৭৬
শতক/অর্ধশতক- ১/৯
সর্বোচ্চ- ১০০

 

Share:

Author: Tonmoy Bhowmick