সাম্পাওলির প্লানে যা বলছে, মেসি নিয়ে সবটা সাজাচ্ছেন তিনি।

বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে আর্জেন্টিনা তখন হাবুডুবু খাচ্ছিলো। বাউজা দায়িত্ব ছেড়ে দিলে আর্জেন্টিনাকে বিশ্বকাপে তুলে আনার গুরুদায়িত্ব পড়ে লা-লীগায় সেভিলার দায়িত্ব পালন করা সাম্পাওলির ওপর। হাতে তখন মাত্র চারটি ম্যাচ। ঘাঁড়ের উপর নিশ্বাস ফেরতে থাকা দুশ্চিন্তাদের একপাশে ঠেলে ঠিকই বিশ্বকাপের মূলপর্বে উঠে আসে আর্জেন্টিনা।

অনেকের হয়তো মনে আছে ২০১৫-র কোপা আমেরিকাতে চিলি চ্যাম্পিয়ন হয় আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে। সেই দলের কোচ কিন্তু এই সাম্পাওলিই ছিলেন! এখন সেই সাম্পাওলির হাতে দায়িত্ব সঁপে দিয়ে বিশ্বজয়ের স্বপ্ন দেখছে দেশটি।

সাম্পালিও টিপিকাল রক্ষণ বাঁচিয়ে আক্রমণে যাওয়ার প্যাটার্ণে খেলানো কোচ না। তার বিশেষত্ব হলো আক্রমণ আগে, পরে রক্ষণ। দলকে আক্রমণাত্বক মানসিকতায় খেলাতেই পছন্দ তার। সাম্পাওলির প্রিয় ফরমেশন ২-৩-৩-২। সাম্পাওলির এই প্যাটার্ণের প্রতি আগ্রহের কারণ হিসেবে তিনি বলেন তিনি নিজস্বতার জন্য এই প্যাটার্ণ বেছে নিয়েছেন। এর এই ফরমেশনে পুরো দল মাঠজুড়ে বিচরণ করতে পারবে, বল আমার দলের কাছে বেশি থাকবে তাই বিপক্ষ দল আক্রমণের সুযোগ পাবে না তেমন একটা।

-৩-৩-২ ফরমেশনে দুজন সেন্টার ব্যাক থাকে, যারা সারাক্ষণ নিজেদের ডিবক্সের সামনে পাহারা দিতে থাকে। এ দুজনের সামনে একজন ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার থাকে প্রতিপক্ষের অ্যাটাকিং থার্ডের পাসগুলো চুর্ণ-বিচূর্ণ করে দিতে। তার দুপাশে দুইজন উইংব্যাক থাকে যারা আক্রমণের সময় উপরে উঠে ক্রস করে আর রক্ষণের সময় নিচে নেমে রক্ষণে ভূমিকা রাখে।

এদের উপরে থাকে ডিপ লাইন প্লে-মেকার যে মূলত মাঝমাঠ নিয়ন্ত্রণ করে আর প্রয়োজনে আক্রমণে গিয়ে অ্যাটাকিং মিডফিল্ডারের ভূমিকা পালন করে। তার দুপাশে দুজন ওয়াইড মিডফিল্ডার থাকে যারা প্রচন্ড গতিতে আক্রমণে গিয়ে প্রতিপক্ষের রক্ষণ চুরমার করে আর প্রতিপক্ষ আক্রমণে উঠতে গেলে তারা প্রথম বাধা হিসেবে কাজ করে।

সবার সামনে দুজন ফরোয়ার্ড খেলেন যাদের একজন আরেকজনের একটু সামনে খেলেন। একজন সলিড নাম্বার নাইন হিসেবে আক্রমণ পরিচালনা করেন আর আরেকজন খেলেন সেকেন্ড স্ট্রাইকার হিসেবে। ঠিক এই সেকেন্ড স্ট্রাইকারের পজিশনে খেলেন মেসি আর তাকে ঘিরে আবর্তীত হয় পুরো টিমের আক্রমণ। প্রতিপক্ষকে চূর্ণ-বিচূর্ণ করতে যার তুড়ি মেলা ভার!

সাম্পাওলিই এই পদ্ধতির ফাঁক-ফোঁকরও রয়েছে বেশ। সমালোচনাও হয় অনেক। স্বয়ং ডিয়েগো ম্যারাডোনাই এই পদ্ধতির ফরমেশনের বড় সমালোচক। মূলত গতিশীল ফুটবলারদের জন্য এমন ফরমেশন খুব কার্যকর কিন্তু বর্তমান আর্জেন্টিনা দলের মূল একাদশে খেলা মার্কোস রোহো, ওটামেন্ডি কিংবা ফ্যাজিওরা কেউই আস্থা রাখার মতো গতিশীল নয়। সবচেয়ে বড় কথা ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার হিসেবে খেলা হাভিয়ের মাচেরানোর বয়স ৩৪, গতি নিশ্চয়ই অন্য তরুণদের মতো নয়। তাই এখন দেখার বিষয় সাম্পাওলির এই আক্রমণাত্বক প্যাটার্ণে কতটুকু কার্যকর হয় ৩২ বছর ধরের আক্ষেপ মেটানোর অপেক্ষায় থাকা আর্জেন্টাইন ফুটবল দল।

Author: Wahed Murad

I am passionate for sports , specially in cricket and so i'll do my best to development of sports. I'm also teaching English language and trained at web design and development with fine web arts.