টেস্টে হাথুরুর অপছন্দের রিয়াদই এখন অধিনায়ক

মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ কি এক বছর আগে জানতেন, নিয়তি তাকে এখানে নিয়ে আসবে? শ্রীলঙ্কা সফরে প্রথম টেস্টের পরে হুট করেই সিদ্ধান্ত হলো, তাকে দেশে ফেরত পাঠানো হবে। শততম টেস্টটা দেখলেন দর্শক হয়ে, পি সারা ওভালে বাংলাদেশের আলো ঝলমলে মঞ্চে তিনি ছিলেন পাদপ্রদীপের বাইরে। সেই মাহমুদউল্লাহই এখন বাংলাদেশের দশম টেস্ট অধিনায়ক। কী অদ্ভুত, সেই শ্রীলঙ্কার সঙ্গেই সাদা পোশাকে নামবেন টস করতে!

সংবাদ সম্মেলনে সেই রোমাঞ্চের ছিঁটেফোটাও অবশ্য খুঁজে পাওয়া গেল না। মাঠে যেমন সবসময় যুধিষ্ঠিরের মতো স্থিতধী, আজ ক্যামেরার সামনেও তিনি মোটামুটি নিষ্কম্প। দরকার হলে কঠোর হতে পারেন, এমন বার্তাও তো দিয়ে রাখলেন!

এসবের কিছুই অবশ্য হওয়ার কথা ছিল না। শততম টেস্টে বাংলাদেশ জিতেছিল, মাহমুদউল্লাহও জায়গা হারিয়ে ফেলতে পারতেন। কিন্তু নিয়তিই তাকে নিয়ে এলো সবার সামনে, পাদপ্রদীপের আলোয়। সাকিব আল হাসানের চোটে এখন তার ওপরেই নেতৃত্বের গুরুভার। অথচ মাহমুদউল্লাহ জানালেন, এমন অধিনায়কত্ব তিনি চাননি।

‘যেভাবে পেয়েছি সেভাবে পেতে চাইনি অবশ্যই। কারণ সাকিব আমাদের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ একজন খেলোয়াড়। ওকে হারিয়ে ফেলা আমাদের দলের জন্য বড় একটা বিপর্যয়ই বলতে হবে। তারপরও দিন শেষে আমরা সবাই বাংলাদেশ দলকে প্রতিনিধিত্ব করছি। সেই সুযোগ পেয়ে আমরা সবাই বেশ রোমাঞ্চিত।’

অধিনায়কত্ব অবশ্য তার জন্য নতুন কিছু নয়। ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে, বিপিএলে টস করেছেন অনেক ম্যাচেই। খুলনা টাইটানসের হয়ে এই বিপিএলেও দেখিয়েছেন, সামনে থেকে পথ দেখানোর কাজটা ভালোই করতে পারেন। এমনিতে তিনি খুবই স্থির, মাঠে মেজাজ হারাতে দেখা গেছে কালেভদ্রে। সেই স্থির থাকাটাই নিজের সবচেয়ে বড় শক্তি হিসেবে মানছেন, ‘আমার মনে হয় অধিনায়কত্বের বড় একটা কাজ হচ্ছে মাঠের মধ্যে অনেক সিদ্ধান্ত নিতে হয়। স্থির থাকতে না পারলে সিদ্ধান্তগুলো এদিক-সেদিক হয়ে যেতে পারে। আমি এটা বিশ্বাস করি।’

তবে নিজের অভিজ্ঞতা থেকেই জানেন, দলে পারফর্ম করার চেয়ে বড় অনুপ্রেরণা একজন অধিনায়কের জন্য আর কিছু হতে পারে না। নিজেও তা মনে করিয়ে দিলেন, ‘আমি সব সময় একটা জিনিস বিশ্বাস করি যদি সবাই দলগতভাবে ভালো পারফরম্যান্স করে তাহলে অধিনায়কত্ব করা খুব সহজ হয়ে যায়।’

চন্ডিকা হাথুরুসিংহের প্রসঙ্গও এলো। সেই শ্রীলঙ্কা সফরে হাথুরুই ছিলেন বাংলাদেশের কোচ। এখন প্রতিপক্ষ দলে আছেন বলে কি বাড়তি জেদ কাজ করছে মাহমুদউল্লাহর? এসব মাথাতেই আনছেন না নতুন অধিনায়ক, ‘না আমার ওসব নিয়ে কোনো মাথা ব্যথা নেই। আমি চিন্তা করি যে আমি আমার দলকে কিভাবে সেরা সার্ভিসটা দিতে পারবো।’

সেটা করতে গিয়ে দরকার হলে মাহমুদউল্লাহ কঠোর হতেও রাজি আছেন। এমনিতে তিনি স্বল্পবাক, কিন্তু জানিয়ে রাখলেন দলের প্রয়োজনে কোনো ছাড়ই দেবেন না, ‘নিজের কাজে কোনো কিছুতেই আমি ছাড় দেব না। সেটা কঠোর হয়ে হোক বা ভালোভাবে অনুপ্রেরণা দিয়েও হোক; সব দিক থেকেই চেষ্টা করবো। আসল কথা হচ্ছে এটা বাংলাদেশ ক্রিকেট। বাংলাদেশ দলকে ভালো কিছু দিতে হবে। এটাই আমাদের দায়িত্ব… এটাই আমাদের কর্তব্য।’

অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহর এই বাড়তি তাড়নাটা মাঠেও যদি অনুদিত হয়, বাংলাদেশ দারুণ কিছুর আশা করতেই পারে!

Author: Wahed Murad

I am passionate for sports , specially in cricket and so i'll do my best to development of sports. I'm also teaching English language and trained at web design and development with fine web arts.