বিপিএল মানে বিদেশী প্রিমিয়ার লিগ

bpl surprise

বিপিএল মানে কী? অবশ্যই বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ। কিন্তু অনেকে বিদ্রুপ করে বলছেন, বিদেশি প্রিমিয়ার লিগ। কারণও আছে, কারণটা অযৌক্তিকও নয়!

এবার নিয়ম করা হয়েছে প্রত্যেক দলে একাদশে খেলাতে পারবে সর্বোচ্চ পাঁচজন করে বিদেশি খেলোয়াড়। অবশ্য এবারই প্রথম নয়। ২০১২ ও ২০১৩ সালে প্রথম দুটি আসরেও একাদশে খেলেছেন পাঁচজন করে বিদেশি খেলোয়াড়। তবে পরের দুটি টুর্নামেন্টে সংখ্যাটা কমিয়ে আনা হয় চার জনে।

‌বি‌পিএ‌লে এবার বিদেশিদের কোটা বাড়ানোর পক্ষ্যে প্রধান যুক্তি ছিল, সিলেট ফিরে আসায় দল একটি বাড়ছে তাই মানসম্পন্ন স্থানীয় খেলোয়াড়ের সংকট হতে পারে। কিন্তু, শেষ মুহুর্তে বরিশাল বুলস ব্যাংক গ্যারান্টি মানি দিতে ব্যর্থ হয়ে বাদ পড়ায় আগের মতো সাত দলের আসর হলেও বিদেশী কোটা আর কমানো হয় নি।

তবে, পাঁচজন বিদেশি যে খেলাতেই হবে এমন বাধ্যবাধকতা নেই। সর্বনিম্ন তিনজনও খেলানো যাবে। কিন্তু যেভাবে গণহারে বিদেশীদের সঙ্গে চুক্তি করা হয়েছে, তাতে সেটা কোনো দল করবে মনে করার কারণ নেই!

পঞ্চম বিপিএলে সব মিলিয়ে দলপ্রতি স্থানীয় খেলোয়াড়ের সংখ্যা গড়ে ১২ জনেরও কম। বিদেশী কোটা বাড়ানোয় এবার দেশী ক্রিকেটার কাটছাঁট করেছে ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলো। ফলে স্থানীয় ক্রিকেটের আলোচিত ও চেনামুখ বেশ কিছু খেলোয়াড়ের জন্য চলতি বিপিএল দূঃস্বপ্নের অন্য নাম! জাতীয় দলে খেলা অনেক ক্রিকেটার এবং এমনকি ঘরোয়া আসরে পরীক্ষিত পারফরমার ও তরুণ উদীয়মান বেশ ক’জনও দল পান নি।

এখনো শেষ না হওয়া জাতীয় লিগে দারুণ ব্যাট করা নাঈম ইসলাম ঘরোয়া ক্রিকেটে খুবই ধারাবাহিক ব্যাটসম্যান। এমনকি গত বিপিএলে তিনি রংপুর রাইডার্সকে নেতৃত্বও দিয়েছেন। অথচ ‘ছক্কা নাঈম’খ্যাত এই ব্যাটসম্যানকে এবার কোনো দলই নেয়ার দরকার মনে করেনি! বাংলাদেশ জাতীয় দলে টি-টোয়েন্টি স্পেশালিষ্ট হিসেবে জায়গা পেয়েছিলেন জুনায়েদ সিদ্দিকী।

বাঁ-হাতি এই ওপেনারের গত আসরেও শুরুতে জায়গা হয়নি। তবে একজনের ইনজুরিতে মাঝপথে তাকে দলে নেয় রাজশাহী কিংস। এবার তার ভাগ্যে কোনো দল মিলেনি। নেই ‘ছক্কা মিলন’ নামে পরিচিত নাজমুল হোসেন মিলনও। সর্বশেষ আসরে শিরোপা জয়ী দল ঢাকা ডায়নামাইটসের হয়ে সোহরাওয়ার্দী শুভ মাঠ মাতালেও এবার অভিজ্ঞ এই ক্রিকেটারকে দলে অন্তর্ভূক্ত করেনি কোন ফ্র্যাঞ্চাইজি।

জাতীয় দলে অনেক আশা ভরসা নিয়ে এসেছিলেন তরুণ লেগস্পিনার জুবায়ের হোসেন লিখন। শুরুতে টেস্টে বেশ আলোও ছড়িয়েছেন। কিন্তু এবার কোনো বিপিএল দল তাকে মুল্যায়ন করে নি। গত অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ খেলা যুব দলের দুই স্পিনার শাওন গাজী ও সঞ্জিত সাহাও পাননি দল। তাদের সতীর্থ আক্রমণাত্মক ব্যাটসম্যান পিনাক ঘোষও থেকেছেন অবিক্রীত।

গতবার কুমিল্লার হয়ে খেললেও এবার পেসার শাহাদাত হোসেন রাজীবের প্রতি আগ্রহ দেখায়নি কোনো ফ্র্যাঞ্চাইজি। স্থানীয় দল খুলনা টাইটানসে ছিলেন হাসানুজ্জামান। এবার তার প্রতি সদয় হয়নি দলটি।

বিপিএলে এবার দেখা যাবে না, এমন উল্লেখ্যযোগ্যদের মধ্যে আরও রয়েছেন এনামুল হক জুনিয়র, আসিফ আহমেদ রাতুল, আবদুল মজিদ, মার্শাল আইয়ুব, সৈকত আলী, মনির হোসেন খান, তুষার ইমরান, ডলার মাহমুদ ও রাসেল আল মামুন।

তবে নিজেকে দারুণ সৌভাগ্যবান মনে করতে পারেন শামসুর রহমান শুভ। প্রথম বিপিএলে দারুণ সাফল্য পাওয়া এই ওপেনার প্লেয়ার্স ড্রাফটে দল না পেলেও শেষ মুহুর্তে তাকে অন্তর্ভূক্ত করেছে রংপুর রাইডার্স। যদিও ঢাকা প্রিমিয়ার ডিভিশন ক্রিকেট লিগ ও জাতীয় লিগে বেশ রান পাওয়া রবিউল ইসলাম রবি দল পাননি।

চলমান বিপিএল উন্মাদনায় চার-ছক্কা আর উইকেট পতনের আনন্দে যখন কেঁপে উঠবে পুরো দেশ, তখন আনমনে হলেও দীর্ঘশ্বাস বেরিয়ে আসবে নাঈম, জুবায়েরদের! এটা তাঁদের জন্য যে হতাশার আসর!

স্থানীয়‌দের উ‌পেক্ষা ক‌রে গণহা‌রে বি‌দেশি‌দের খেলা‌নোর এই আ‌ক্ষেপ কী বাংলা‌দে‌শের ক্রি‌কে‌টেরও নয়?

– ওয়াহেদ মুরাদ

Author: MM Rahman Bappi

UpWork ফ্রীলান্সার । ৮ বছর এস-ই-ও ক্যাটেগরিতে কাজ করার অভিজ্ঞতা । প্রায় ১৫০০ ওয়েবসাইটের এস-ই-ও প্রবলেম সল্ভ করার অভিজ্ঞতা সম্পন্ন ফ্রীলান্সার । গুগল এলগরিদম, এড ওয়ার্ডস, সার্চ কনসোল, এনালাইটিক্স, ডিপ লেভেল ওয়েবসাইট অডিট, কম্পিটীটর এ্যানালাইসিস, ওয়েবসাইট আর্কিটেকচার, ই-কমার্স প্রোডাক্ট এস-ই-ও কন্ট্রোল, কী-ওয়ার্ড এ্যানালাইসিস, হাই লেভেল রাঙ্ক ইম্প্রভমেন্ট, লোকাল সার্চ... ইত্যাদি যেকোন বড় ধরনের প্রবলেম সল্ভ করে ক্লাইন্টকে সহযোগীতা করাই তার কাজ । বর্তমানে ইন্ডিপেনডেন্ট এস-ই-ও কনসালটেন্ট হিসেবে কাজ করছেন ও ডেইলি স্পোর্টসবিডি নিয়ন্ত্রন করছেন । অবসর সময়ে স্ট্রিট ফটোগ্রাফি করেন ।