ক্লাব ফুটবল

হঠাৎ কেন অর্থনৈতিক ধ্বসের ইঙ্গিত লা লিগায়? প্রথম পর্ব

বার্সেলোনার কথাই বলুন আর রিয়াল মাদ্রিদ, কোন দলকেই পরিপূর্ণ ভাবে শক্তিশালী মনে হচ্ছে না এই আগামী শনিবারের খেলার জন্যে। এই পরিপূর্ণতা মাঠের বাইরে বলুন আর ভেতরে, কোনভাবেই তারা কুলিয়ে উঠতে পারছে না। পরিপার্শ্বিকতা অন্তত তা-ই বলছে। অথচ লা-লিগার এই খেলাটিই হবার কথা ছিল শ্বাসরূদ্ধকর!

 

ক্যাম্প ন্যু তে আগামী শনিবার বিকেলে মুখোমুখি হতে যাচ্ছে সেই চিরচেনা প্রতিদ্বন্দ্বী রিয়াল-বার্সা। যার জন্যে অধির আগ্রহে বসে থাকি আমি আপনি সারা বছর। এটা ক্ল্যাসিকো! ক্লাব ফুটবলের সবচেয়ে বড় ম্যাচ! অন্তত তাই তো হবার কথা ছিল, তা কি হচ্ছে? সবচেয়ে কঠিন প্রশ্ন!

এই সপ্তাহে কাতালুনিয়ার ঝড়কে কেন্দ্র না করে বাতাস বইছে অন্যদিকে। আপাতত সবচেয়ে বড় কৌতূহলের জায়গা একটাই। আগামী বুধবার তুরিনে চ্যাম্পিয়নসলীগ এ জুভেন্টাস-বার্সা লড়াইয়ে রোনালদো কি শেষ অবধি মুখোমুখি হচ্ছেন মেসির? আর উত্তেজনার কেন্দ্রবিন্দু এটাই তো হবার কথা। ক্ল্যাসিকো এটা, যেখানে পৃথিবীর সবচেয়ে দারুণ খেলোয়াড়েরা থাকবে মুখোমুখি।

 

ক্যাম্প ন্যু এর অবস্থা দেখে কি এটা বলা যেতে পারে? বিশ্বের দারুণ খেলোয়াড়েরা? তাদের একাদশের অবস্থা এখন এতোটাই করুণ যে, মেসি ছাড়া কাউকেই সেভাবে গুণতে পারা যাচ্ছে না। আর মেসিকেও বা গুণবেন কি করে, সে-ও তো কাতালান ক্লাব থেকে বের হবার জন্যে এবারের সামার থেকেই এক পা বের করে আছেন। কিন্তু এটা তো জানা কথাই, মেসি এবারের ব্যালন ডি’অর এর বিজেতা, আর সে ছাড়া ক্যাম্প- ন্যু এর সেরা দশ কে কোন তালিকাভূক্তই করা যাচ্ছে না আপাতত।

 

অবশ্য দুই দলেই পটেনশিয়াল সুপারস্টার আছে অনেক, আছেন অনেক আইকনিক খেলোয়াড়ও। তবুও এল ক্ল্যাসিকো যে নিজের জৌলুস হারাচ্ছে, এটা যেন পরিষ্কার বোঝা যাচ্ছে।

 

ওদিকে বার্সেলোনার কথাই ধরুন, তারা কোনদিক দিয়েই ঠিক ডাঙায় নেই। না আছে প্রাতিষ্ঠানিক ভাবে, না আছে অর্থনৈতিক ভাবে, না আছে খেলার দিক দিয়ে। অর্থনৈতিক অবস্থা এতটাই খারাপ যাচ্ছে যে, মেম্ফিস ডিপে কেও কিনতে পারছেনা তারা, প্রথম পছন্দ লাউতারো মার্তিনেজের কথা বাদই দিন! আবার, মাদ্রিদের কথা বলতে গেলে তারা এদিক দিয়ে এগিয়ে আছে। সামার উইন্ডোতে এক পয়সাও বের করেনি তারা পকেট থেকে। যদিও আগামী সামার ট্রান্সফারে কিলিয়ান এমবাপ্পেকে দলে ভেড়াতে চাইছে তারা। প্রিমিয়ার লিগের লা লিগা তো আর এমন না যে, যারা বসে থাকছে, তাদেরকেই ছাটাই করা হবে! আর স্পেনের খেলোয়াড়রা যে বাইরে যাচ্ছেন না, তাও কিন্তু না। লীডস ইউনাইটেড দুজন স্প্যানিশ আন্তর্জাতিক রদ্রিগো আর দিয়েগো লরেন্তেকে কিনেছে এবার সামারেই।

 

ওদিকে মাদ্রিদের মতন লে চি-ও নিজের গাঁটের পয়সা খরচ করে কেনেনি কাউকেই, কিন্তু তারা কয়েকজন খেলোয়াড় বিক্রি করেছে ঠিকই। যার মধ্যে ছিল ফেরান টরেস, ফ্র্যন্সিস কোক্যুলিন এবং সমর্থকদের মন ভেঙে দিয়ে এর মধ্যে ছিলেন দানি পারেজো। আবার ওদিকে রগ্রিগো মাস্তেলা ছেড়ে গিয়েই ঘটলো বিপত্তি। তার ভ্রু গেল কুঁচকে। যেখানে তাকে নেবার লড়াই চলছিল বার্সেলোনা আর অ্যাতলেতিকো মাদ্রিদের, সেসব ছেড়ে তাকে যেতে হয়েছে প্রিমিয়ার লিগের সবচেয়ে নতুন দলে।

 

স্পেন শেষবার ২০১০ এ যখন বিশ্বকাপ জিতলো, তাদের সে সেরা ২৩ জনকে দাড়া করানো হয়েছিল ইংল্যান্ডের জন্যে। যদিও এবারের লা রোজার স্কোয়াড দখল করে আছে মাত্র ৯ জন প্রিমিয়ার লিগ খেলোয়াড়, এই সংখ্যা বাড়তে পারতো যদি না থিয়াগো আলকান্তারা এবং লতেন্তেকে বিদায় না জানানো হতো। প্রিমিয়ার লিগের এই করুণ অর্থনৈতিক অবস্থা যে হয়েছে, এবং তারা যে এটা জানে, সেটা সবাই বুঝতে পারছে। অন্তত আমি, আপনি তো অবশ্যই।

 

করোনা মহামারি বিশ্বের সব ক্লাবেরই অর্থনৈতিক হাটু ভেঙেছে, তা তো সবারই জানা কথা, কিন্তু তবুও ইংলিশ লিগের মত মেরুদন্ড ভাঙেনি কারও। যদিও প্রিমিয়ার লিগের সূচক কমেছে দশ শতাংশই। সিআইইএস এর এক রিপোর্ট থেকে জানা যায়, আগে যেটা ছিল ১.৬৫ বিলিয়ন ইউরো, সেটা গিয়ে দাড়িয়েছে ১.৪৯ বিলিয়ন ইউরোতে।

অন্যদিকে স্প্যানিশ লিগ খরচ করেছে মাত্র ৩৪৮ মিলিয়ন ইউরো! গতবার যেটা ছিল প্রায় ১.৪০ বিলিয়ন! আর কোনও বিগ ফাইভ লিগেরই এই করুণ দশা হয়নি এবারের স্প্যানিশ লিগের মত।

যেখানে প্রতিবার তারা থাকে শীর্ষে, মহামারির এক ধাক্কায়, “বিগ ফাইভের” মধ্যে লা লিগার নেমেছে চারে।

তারা কি আদৌ এই জায়গা থেকে উঠে আসতে পারবে? নাকি এই এক ধাক্কা সামলাতে গিয়ে হারাবে জৌলুস!

To Top