fbpx

এক ধাওয়ানকে ৪ বার জীবন ফিরিয়ে দেয়ার খেসারত দিল চেন্নাই

পয়েন্ট টেবিলে ৬ নাম্বারে অবস্থান করা চেন্নাই সুপার কিংস ২ নাম্বারে থাকা দিল্লি ক্যাপিটালসের বিপক্ষে মাঠে নেমেছিল আজ। ৮ খেলায় ৬ জয়ে ১২ পয়েন্ট নিয়ে বেশ শক্ত অবস্থানে ছিল দিল্লি। অন্যদিকে ৮ খেলায় ৩ জয়ে ৬ পয়েন্ট পাওয়া চেন্নাইকে প্লে অফের স্বপ্ন বাঁচিয়ে রাখতে হলে জয়ের বিকল্প ছিল না। কিন্তু ফিল্ডিং আর বোলারদের ব্যর্থতায় সেটি আর হতে দেয়নি। উল্টো দিল্লির কাছে হেরে গেল ৫ উইকেটে।

কঠিন এই সমীকরণকে সামনে রেখে শারজার ছোট মাঠে টসে জিতে শক্তিশালী দিল্লির বিপক্ষে ব্যাট করতে নামে ধোনির চেন্নাই। শুরুটা মোটেই ভালো হয়নি তাদের। স্কোর বোর্ডে কোন রান যোগ না করেই মাত্র ৩ বলে খেলে ইয়াং ফাস্ট বোলার তুষার দেশপান্ডের বলে নর্টজের ক্যাচ হয়ে ফিরে যান স্যাম কারেন।

শুরু ধাক্কা কাটিয়ে ইনিংস বিল্ডআপের দিকে নজর দেন অভিজ্ঞ দুই ব্যাটসম্যান ডু প্লেসিস এবং শেন ওয়াটসন। ৩য় উইকেট জুটিতে ১১.১ ওভার মোকাবেলা করে ৮৭ রানের জুটি খেলায় ফিরিয়ে আনে চেন্নাইকে। নর্টজের বলে বোল্ড হয়ে ফিরে যাবার আগে ওয়াটসন ২৮ বলে ৩৬ রানের সাবধানি ইনিংস খেলে বিপদ মুক্ত করেন দলকে। ব্যক্তিগত ৫৮ এবং দলিও ১০৯ রানে ডু প্লেসিস ফিরলেও দলকে চাপে পড়তে দেননি রায়ডু।

৫ নাম্বারে নামা ধোনি আজ ছিলেন আরও একবার ব্যর্থ। ফিরেছেন মাত্র ৩ করে। দলীয় ১২৯ রানে ধোনি ফিরলে পরের পথটুকু পাড়ি দেন রবিন্দ্র জাদেজা আর আম্বাতি রায়ুডু। শেষের দিকে জাদেজার ৪ ছক্কায় ১৩ বলে ৩৩ রানের ক্যামিও আর রায়ুডুর ২৫ বলে ৪৫-এ চেপে নির্দিষ্ট ২০ ওভার শেষে ৪ উইকেটে দিল্লির সামনে ১৭৯ রানের কম্পেটিটিভ স্কোর দাড় করায় সিএসকে। দিল্লির হয়ে এনরিখ নর্টজে ২ টি এবং দেশপান্ডে-রাবাদা নেন ১ টি করে উইকেট।

জবাবে শুরুটা একেবারেই ভালো হয়নি দিল্লি ক্যাপিটালসের। ইনিংসের ২য় বলে দীপক চাহারের বলে ফিরতি ক্যাচ হয়ে ফিরে যান পৃথ্বী’শ। দলীয় ২৬ রানে চাহারের ২য় শিকার হয়ে ফিরে যান রাহানেও(৮)। চোখ ধাঁধানো ফিল্ডিংয়ে পাওয়ার প্লেতে ২ উইকেট তুলে নিয়ে দিল্লিকে চাপে ফেলে দেন ধোনিরা। সময় গড়ার সাথে সাথে ফিল্ডিংয়ের সেই ধার আর দেখা যায়নি ধোনিদের

  স্টোকসের সেঞ্চুরিতে প্লে-অফের দৌড়ে টিকে রইলো রাজস্থান

সেই চাপও ফিল্ডিং ব্যর্থতায় আর ধরে রাখতে পারেনি চেন্নাই। এক ধাওয়ানের ক্যাচই ৪ বার ফেলেছে তাঁরা। ব্যক্তিগত ২৫ এবং ২৭ রানে ক্যাচ ফেলেন চেন্নাইয়ের ফিল্ডাররা। জীবন পেয়ে এক প্রান্তে চীনের প্রাচীর হয়ে দাড়িয়ে যান অভিজ্ঞ শেখর ধাওয়ান। মারতে থাকেন অসাধারণ সব চারের মার। তুলে নেন অর্ধশতকও। ব্যক্তিগত ৫০ রানে আরও একবার ধাওয়ানের সহজ ক্যাচ ফেলে দেন ধোনি।

প্রথম আইপিএল শতক হাকিয়ে এভাবেই ব্যাট তুলে ধরেন শেখর ধাওয়ান। ছবিঃ আইপিএল।

উইকেটের জন্য হন্যে হয়ে থাকা চেন্নাইকে খেলায় ফেরান ডিজে ব্রাভো। স্লট লেন্থের বল বাউন্ডারি ক্লিয়ার করতে না পারায় লং লেগে ডু প্লেসিসের হাতে ধরা পড়েন অধিনায়ক শ্রেয়াস আইয়ার (২৩)। ব্যক্তিগত ৭৯ রানের মাথায় চতুর্থ বারের মত জীবন পান ধাওয়ান। ১৩৭ রানে ১৪ বলে ২৪ রানের কার্যকরী ইনিংস খেলে শার্দুল ঠাকুরের বলে ফেরার পরপরই ফিরে যান অ্যালেক্স ক্যারি (৪)।

৫ বলে ২১ রান করার পথে একটি দুর্দান্ত শট খেলছেন ম্যাচের আরেক নায়ক আক্সার প্যাটেল। ছবিঃ আইপিএল।

লাস্ট ওভারে জিততে হলে ১৭ রান দরকার ছিল দিল্লির। সবাইকে অবাক করে দু’জন বামহাতির সামনে জাদেজার মত বাঁ হাতি স্পিনারকে বোলিংয়ে ডাকেন ধোনি। লাস্ট ওভারে ৩ ছক্কা হাকিয়ে জয় নিশ্চিত করেন আক্সার পাটেল। শেষ পর্যন্ত ৫৮ বলে ১০১ এবং ৫ বলে ২১ রান করে অপরাজিত থাকেন যথাক্রমে ধাওয়ান এবং আক্সার পাটেল। চেন্নাইয়ের হয়ে ২ টি উইকেট নেন দীপক চাহার। এছাড়াও ব্রাভো, কারেন এবং শার্দুল ঠাকুর নেন ১ টি করে উইকেট।

ম্যাচ সেরা হোন আইপিএলে প্রথম শতক হাঁকানো শেখর ধাওয়ান। এই জয়ে ১৪ পয়েন্ট নিয়ে তালিকার শীর্ষে উঠে গেল দিল্লি ক্যাপিটালস।  অন্যদিকে প্লে অফের সম্ভাবনা অনেকটাই ফিকে হয়ে গেল চেন্নাইয়ের।