fbpx

মাহমুদউল্লাহদের উড়িয়ে জয়ে ফিরলো নাজমুল একাদশ

মিরপুর শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে বিসিবি প্রেসিডেন্টস কাপের চতুর্থ ম্যাচে মাহমুদউল্লাহ একাদশকে ১৩১ রানের বিশাল ব্যবধানে হারিয়ে নিজেদের তৃতীয় ম্যাচে দ্বিতীয় জয় তুলে নিয়ে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে উঠে আসলো নাজমুল একাদশ। আফিফ হোসেনের দুর্দান্ত ৯৮ রানের পর বল হাতে নাসুম আহমেদ, আবু জায়েদ রাহি ও রিশাদ হাসান বল হাতে নৈপুণ্য দেখিয়েছেন।

বিসিবি প্রেসিডেন্টস কাপে আজকের ম্যাচের আগে কোন দলই ২০০ রান তাড়া করতে পারেনি; ২০০ পেরোতে পেরেছিলো শুধু তামিম একাদশই। সেই বিবেচনায় ২৬৫ রানের লক্ষ্য অনেকটাই বেশি। শেষ পর্যন্ত সেই শঙ্কাই সত্যি হয়েছে, বড় লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে খেই হারিয়ে ফেলে মাত্র ১৩৩ রানেই গুটিয়ে গেছে মাহমুদউল্লাহ একাদশ। দলের হয়ে সর্বোচ্চ ২৭ রান করেছেন যৌথভাবে লিটন দাস ও নুরুল হাসান সোহান, ৩ টি করে উইকেট পেয়েছেন নাসুম আহমেদ ও আবু জায়েদ রাহি।

আগের দুই ম্যাচের ব্যর্থতায় নাঈম শেখকে বাহিরে রেখেই নামে মাহমুদউল্লাহ একাদশ। ২৬৫ রান তাড়া করতে নেমে লিটন দাসের সাথে ওপেনিংয়ে নেমে ১৬ রানেই ফিরে যান ইমরুল কায়েস। দ্বিতীয় উইকেটে ২৩ রান যোগ করেন লিটন দাস ও মুমিনুল হক, এরপর ৩৯ রানের ব্যবধানে ৪ উইকেট হারিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে যায় মাহমুদউল্লাহ একাদশ। একে একে ফিরে যান লিটন (২৭), মুমিনুল (১৩), মাহমুদউল্লাহ (১১) ও মাহমুদুল হাসান জয় (১৩) রান করে।

১২ রান করে শেষ স্বীকৃত ব্যাটসম্যান হিসেবে নাম সাব্বির রহমান আউট হয়ে গেলে বড় পরাজয়ের প্রহর গুণতে থাকে মাহমুদউল্লাহ একাদশ, তবে সপ্তম উইকেটে ইনিংস সর্বোচ্চ ২৪ রানের জুটি গড়েন নুরুল হাসান সোহান ও মেহেদি হাসান মিরাজ। ১৬ রান করা মিরাজের আউটে বড় হার নিশ্চিত হয় মাহমুদউল্লাহ একাদশের, সোহান ২৭ রানে অপরাজিত থাকেন।

নাসুম আহমেদ ৮.২ ওভার বোলিং করে ২২ রান দিয়ে নেন ৩ উইকেট, ৭ ওভারে ২ মেইডেন সহ ৩৪ রানে ৩ উইকেট পেয়েছেন আবু জায়েদ রাহি; ২৯ রান দিয়ে ২ উইকেট গেছে রিশাদ হোসেনের পকেটে। মাহমুদউল্লাহ একাদশ ১৭ ওভার ৪ বল বাঁকি থাকতেই ১৩৩ রানে গুটিয়ে গিয়ে ১৩১ রানের বড় হার নিশ্চিত করে।

  বিসিবি প্রেসিডেন্টস কাপের চ্যাম্পিয়ন মাহমুদুল্লাহ্ একাদশ

এর আগে টসে হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুটা ভালো হয়নি নাজমুল একাদশেরও, ৩১ রানেই ৩ উইকেট হারিয়ে বিপর্যয়ে পড়ে দলটি। সৌম্য সরকার ৮, নাজমুল হোসেন শান্ত ৩ ও পারভেজ হোসেন ইমন ২১ রান করেন, এরপরের গল্পটা শুধুই তরুণ আফিফ হোসেনের। সিনিয়র মুশফিকুর রহিমকে দর্শক বানিয়ে দারুণ ব্যাটিংয়ে ফিফটি তুলে সেঞ্চুরির পথে এগিয়ে যাচ্ছিলেন আফিফ হোসেন।

তবে মুশফিকুর রহিমের সাথে ভুল বোঝাবুঝিতে সেঞ্চুরি থেকে মাত্র ২ রান দূরে থাকতে রান আউটের শিকার হন আফিফ হোসেন, তার ব্যাট থেকে আসে ১০৮ বলে ১২ চার ও ১ ছক্কায় ৯৮ রানের ইনিংস। ধীর গতির হলেও ৫২ রানের কার্যকর ইনিংস খেলেন মুশফিকুর রহিম, শেষ দিকে ইরফান শুক্কুরের ৩১ বলে ৪ চার ও ২ ছক্কায় অপরাজিত ৪৭ রানের ইনিংসে ৮ উইকেটে ২৬৪ রানের সংগ্রহ পায় নাজমুল একাদশ।

মাহমুদউল্লাহ একাদশের হয়ে ৫২ রান দিয়ে ৩ উইকেট নেন রুবেল হোসেন, ৬২ রান দিয়ে এবাদত হোসেন ২ ও ৫৩ রান দিয়ে ১ উইকেট পেয়েছেন সুমন খান।