fbpx

পরিশ্রম ফিরিয়ে এনেছে তাসকিনকে

 

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তাঁর আগমন ঘটেছিল রাজসিকভাবে। স্বপ্নের শুরু যাকে বলে। ভারতের মতো বিশ্বচ্যাম্পিয়ন দলের বিপক্ষে একদিবসীয় ক্রিকেটের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে পা রাখেন তিনি। অভিষেক ম্যাচেই নিজের জাত চিনিয়ে ভারতের ব্যাটিং লাইনআপের কোমর ভেঙ্গে দেন শক্ত হস্তে। একে একে তুলে নেন ভারতের টপ অর্ডারের পাঁচ ব্যাটসম্যানকে। মাত্র ২৮ রান খরচায় তুলে নেন সেই পাঁচ উইকেট।

মূলত তখন থেকেই তাঁকে নিয়ে মনে স্বপ্নের বীজ বুনেন দেশের ক্রিকেটপ্রেমীরা। কারণ গতির সাথে লাইন-লেন্থও ছিল চোখে পড়ার মতো। হ্যাঁ, বলছি ঢাকা এক্সপ্রেস তাসকিন আহমেদ তাজিমের কথা। তারপর থেকে মোটামুটি দলে নিয়মিত হয়ে যান।

তবে অল্প সময়ের মধ্যে তাঁর ক্যারিয়ারের উজান-ভাটি দেখে ফেলেন এই স্পিডস্টার। ২০১৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ চলাকালীন সময় তাঁর বোলিং অ্যাকশন অবৈধ বলে ঘোষণা করেন আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)। বিশ্বকাপ চলাকালীন-ই উঠেন বাংলাদেশের বিমানে। ফিরে আসেন দেশে। দেশে এসে একপ্রকার ভেঙ্গেই পড়েন তাসকিন। তারপর থেকে বোলিংয়ে সেই আর আগের ধার দেখা যায়না। তুলনামূলকভাবে গতিও কমেছিল কিছুটা।

অন্যান্য পেসারদের ব্যর্থতায় দলে সুযোগ পেলেও স্বরুপে আর ফিরতে পারছিলেন না। উইকেটের দেখা পেলেও বোলিংয়ের লাইন-লেন্থ ছিল একেবারে যাচ্ছেতাই। অঅবশ্য এ নিয়ে সমালোচনাও কম হয়নি। তবে সাহসীরা পথ হারান না। গন্তব্যের পথ ঠিকই খুঁজে নেন যথা সময়ে।

করনাকালীন সময়ে পুরো বিশ্ব-ই ছিলো স্থবির। ক্রিকেটের বেলায়ও ছিল একই দৃশ্যপট। মাঠে ক্রিকেট না থাকলেও ঠিকই নিজেকে ফিরে পাওয়ার লড়াইয়ে তাসকিন করে গেছেন হারা না মানা পরিশ্রম। পুরো লকডাউনের সময়টা কাজে লাগিয়েছেন। কাজ করেছেন ফিটনেস নিয়ে। ওজন কমিয়ে হয়ে গেছে পুরো ফিট।

দীর্ঘ ৫-৬ মাসের হাড়ভাঙা খাটুনি বৃথা যায়নি। ফলও পেয়েছেন হাতানাতে। প্রস্তুতি ম্যাচে করেছেন অগ্নিঝরা বোলিং। প্রেসিডেন্টকাপেও নিয়ে এসেছেন প্রস্তুতি ম্যাচের জৌলুশ। প্রথম ম্যাচেই শিকার করেছেন তিন উইকেট। ফিরেছেন স্বীয় মহিমায়।

  দেশে ফিরে দলের সাথেই অনুশীলন করবে সাকিব: বিসিবি সভাপতি

তাসকিনের এমন নিখুঁত বোলিং দেখে তাঁর প্রশংসায় পঞ্চমুখ সতীর্থ ও জাতীয় ক্রিকেট দলের একদিবসীয় অধিনায়ক তামিম ইকবাল খান।

অব্যাহত থাকবে তাসকিনের এমন ধারালো পারফরম্যান্স এমনটাই আশা গোটা ক্রিকেটপ্রেমীদের। পরিশ্রম কখনও কাউকে ঠকায় না, পরিশ্রম মানুষকে নিয়ে যায় তাঁর কাঙ্ক্ষিত গন্তব্যে। তাইতো বলা হয় পরিশ্রম সফলতার মূল চাবিকাঠি।