fbpx

রাজস্থানকে হারিয়ে আবারও শীর্ষে উঠলো দিল্লি

দুবাই আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে রাজস্থান রয়্যালসকে ১৩ রানে হারিয়ে ১ ম্যাচ পর জয়ে ফিরলো রাজস্থান দিল্লি ক্যাপিটালস। সুবিধাজনক অবস্থানে থেকেও অ্যানরিখ নরৎজে, কাগিসো রাবাদাদের দুর্দান্ত বোলিংয়ে হার নিয়ে মাঠ ছাড়তে বাধ্য হয় রাজস্থান রয়্যালস। এই জয়ে মুম্বাই ইন্ডিয়ানসকে টপকে আবারও শীর্ষে উঠে এসেছে দিল্লি ক্যাপিটালস, ম্যাচ সেরা হয়েছেন দিল্লি পেসার অ্যানরিখ নরৎজে।

১৬১ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে রাজস্থান রয়্যালসকে উড়ন্ত সূচনা এনে দেন দুই ওপেনার জস বাটলার ও বেন স্টোকস, ১৮ বল স্থায়ী উদ্বোধনী জুটিতে ৩৭ রান আসে। ৯ বলে ৩ চার ও ১ ছয়ে ২২ রানের ছোট্ট ঝড়ো ইনিংস খেলেন জস বাটলার, এর মধ্যে অ্যানরিখ নরৎজের করা তৃতীয় ওভার থেকেই ১৬ রান নিয়েছেন তিনি। একই ওভারের শেষ বলে ১৫৫ গতির এক বলে বোল্ড হয়ে ফিরেন বাটলার, টিকতে পারেননি অধিনায়ক স্টিভেন স্মিথ। রবিচন্দ্রন অশ্বিনকে ফিরতি ক্যাচ দিয়ে ৪ বলে ১ রান করে ফিরেন তিনি।

৪০ রানে ২ উইকেট হারালেও বেন স্টোকস ও সাঞ্জু স্যামসনের ব্যাটে জয়ের পথে ভালোভাবেই এগিয়ে যায় রাজস্থান রয়্যালস, তবে ৩৫ বলে ৬ চারে ৪১ রান করা বেন স্টোকসের বিদায়ে বিপত্তির শুরু। ১৮ বলে ২৫ রান করে ফিরে যান সাঞ্জু স্যামসনও, রিয়ান পরাগ ১ রান করে রান আউটে কাটা পড়লে শঙ্কা জাগে রাজস্থানের জয় পাওয়া নিয়ে। তবে ভালো ব্যাট করছিলেন বাজে একটা মৌসুম কাটানো রবিন উথাপ্পা, সাথে টুর্নামেন্টে এখন পর্যন্ত সেরা ফিশিনার তকমা পাওয়া রাহুল তেওয়াতিয়া।

শেষ ৫ ওভারে ৩৯ রানের সহজ সমীকরণ, তবে ১৬ তম ওভারে বোলিংয়ে এসে মাত্র ২ রান দেন রবিচন্দ্রন অশ্বিন। ধীরে ধীরে কঠিন হয়ে ওঠে জয়ের সম্ভাবনা। ২৭ বলে ৩২ রান করা রবিন উথাপ্পাকে বোল্ড করেন অ্যানরিখ নরৎজে, সেই ওভার থেকে আসে মাত্র ৪ রান। এদিন আর দলের ত্রাতা হতে পারেননি রাহুল তেওয়াতিয়া, শেষ পর্যন্ত ১৩ রানের হার নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয় রাজস্থান রয়্যালসকে। রাহুল তেওয়াতিয়া ১৮ বল খেলে করেন ১৪ রান, অ্যানরিখ নরৎজে ও অভিষিক্ত তুষার দেশপান্ডে ২ টি করে উইকেট নেন।

  গাইকোয়াদের ব্যাটিং নৈপুণ্যে আরসিবির বিপক্ষে সহজ জয় চেন্নাইয়ের

টসে জিতে ব্যাটিংয়ে নেমে জোফরা আর্চারের করা ইনিংসের প্রথম বলেই ফিরে যান দিল্লি ক্যাপিটালসের ওপেনার পৃথ্বী শ, নিজের দ্বিতীয় ওভারে ৯ বলে ২ রান করা আজিঙ্কা রাহানেকে আউট করলে ১০ রানেই ২ উইকেট হারিয়ে বিপাকে পড়ে দিল্লি। তবে দ্বিতীয় উইকেটে অধিনায়ক শ্রেয়াস আয়ারকে নিয়ে ৮৫ রানের জুটি গড়েন শেখর ধাওয়ান, শ্রেয়াস গোপালের হলে কার্তিক ত্যাগিকে ক্যাচ দেওয়ার আগে তার ব্যাট থেকে আসে ইনিংস সর্বোচ্চ ৩৯ বলে ৬ চার ও ২ ছয়ে ৫৭ রান।

শুরুতে দেখে শুনে খেললেও ধাওয়ানের আউটের পর হাত খোলেন আয়ার, ৪৩ বলে ২ চার ও ৩ ছক্কায় ৫৩ রানে আয়ারের বিদায়ের পর বড় সংগ্রহের সম্ভবনা কমতে থাকে। শেষ দিকে পরিস্থিতির দাবী মেটানো ব্যাটিং করতে ব্যর্থ হন দুই অজি ব্যাটসম্যান আলেক্স ক্যারি ও মারকাস স্টয়নিস, তাদের ব্যাট থেকে আসে যথাক্রমে ১৩ বলে ১৪ ও ১৯ বলে ১৮ রানের ইনিংস। আর্চার-ত্যাগিদের দুর্দান্ত বোলিংয়ে শেষ ৪ ওভারে ২৯ রানের বেশি তুলতে পারেনি দিল্লি ক্যাপিটালস।

শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত ২০ ওভারে ৭ উইকেটে ১৬১ রানের সংগ্রহ পায় দিল্লি ক্যাপিটালস, অতিরিক্ত থেকে আসে ১০ রান। রাজস্থান রয়্যালসের হয়ে ৪ ওভারে মাত্র ১৯ রান দিয়ে ৩ উইকেট নেন জোফরা আর্চার, ৩২ রান দিয়ে ২ উইকেট পেয়েছেন জয়দেব উনাদকাট; ১ টি করে উইকেট নিয়েছেন কার্তিক ত্যাগি ও শ্রেয়াস আয়ার।

সংক্ষিপ্ত স্কোরঃ

দিল্লি ক্যাপিটালসঃ ১৬১/৭, ওভারঃ ২০। (শেখর ধাওয়ান ৫৭, শ্রেয়াস আয়ার ৫৩, মারকাস স্টয়নিস ১৮, আলেক্স ক্যারি ১৪, আক্সার প্যাটেল ৭, জোফরা আর্চার ৩/১৯, জয়দেব উনাদকাট ২/৩২, কার্তিক ত্যাগি ১/৩০)।

রাজস্থানঃ ১৪৮/৮, ওভারঃ ২০। (স্টোকস ৪১, রবিন উথাপ্পা ৩২, স্যামসন ২৫, বাটলার ২২, অ্যানরিখ নরৎজে ২/৩৩, তুষার দেশপান্ডে ২/৩৭, রবিচন্দ্রন অশ্বিন ১/১৭)

ম্যান অফ দ্যা ম্যাচঃ অ্যানরিখ নরৎজে।