fbpx

সেই রবিনহোর বেতন এখন মাত্র ২৭১ ডলার !

রবসন ডি স্যুজা ওরফ রবিনহো, একজন সাবেক ব্রাজিলিয়ান সুপারস্টার এবং মাদ্রিদিস্তা। তাকে ঠিক লিজেন্ড বলা যায় কিনা এ নিয়ে বিতর্কের অবকাশ নেই ফুটবল দুনিয়াতে। কিন্তু তার প্রতিভা নিয়ে বিতর্ক ছিলো না কারও। ২০০২ সালে পূর্ণবয়স্ক ফুটবলে তার আগমন ঘটেছিল জাঁকজমকপূর্ণ ভাবেই। বল কন্ট্রোল, ড্রিবলিং আর ফিনিশিং তিন মিলে, তিনি শুরু থেকেই ছিলেন অনবদ্য ফুটবলার।
তাই তো, পূর্ণবয়স্ক ফুটবলে প্রবেশ মাত্র মহামতি পেলে রবিনহোকে দাবী করেছিলেন, “দ্য শ্যাডো অব পেলে” হিসেবে। ২০০৪ সালে ব্রাজিলের জায়ান্ট ফুটবল ক্লাব সান্তোস এফসির হয়ে তিনি ৩৭ ম্যাচ খেলে ২১ গোল করেন। তার উপর ভর করেই সান্তোস লীগ ট্রফি জিতে নেন সহজেই। স্বাভাবিকভাবেই বিভিন্ন ইউরোপিয়ান ক্লাব তার প্রতি আগ্রহী পড়েন। কিন্তু ব্যক্তিগত জীবনের ঝঞ্জাট পিছু ছাড়তো না এই রাজপুত্রের।। মাঝেমাঝেই ইঞ্জুরি এবং এক পর্যায়ে তার মায়ের অপহরণের মত ঘটনা থাকা সত্ত্বেও তিনি ফিরে আসেন।
শেষমেশ সবকিছু পেরিয়ে তিনি পাড়ি জমান, পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ ক্লাব রিয়াল মাদ্রিদে। তাকে দেয়া হয় সদ্য বিদায় নেয়া, লিজেন্ড লুইস ফিগোর দশ নম্বর জার্সি। এই বিরাট দায়িত্ব কাঁধে নিয়েও, তিনি প্রথম সিজনেই লা-লীগায় ৩৭ ম্যাচ খেলে ১৪ টি গোল করেন। রিয়াল মাদ্রিদ জিতে যায়, তাদের ইতিহাসের ত্রিশতম ঘরোয়া ট্রফি। তারপরের সিজনেও দুর্দান্ত খেলছিলেন রবিনহো। কিন্তু আবার সৌভাগ্যে বাঁধ সাধে ইঞ্জুরি। এই ইঞ্জুরি ফুরিয়ে উঠেই স্পেন ছাড়তে হলো তার।
ইংলিশ ক্লাব চেলসি তাকে চুক্তিবদ্ধ করতে চেয়েছিল, বলে তিনি জানান একটা সংবাদ সম্মেলনে। যদিও তিনি বলেন, ব্রাজিলিয়ান বন্ধুদের সান্নিধ্যে থাকতে তিনি ম্যানচেস্টার সিটিকেই বেছে নিয়েছেন। ইংলিশ প্রিমিয়ার লীগেও নিজের আত্মপ্রকাশ করেন ১৪ টি লীগ গোল করে ম্যানচেস্টার সিটির সর্বোচ্চ গোলদাতা হয়ে ওঠেন। এরপর আবার সেই ইঞ্জুরি অভিশাপ, পরবর্তী সিজনে মুখ থুবড়ে পড়েন তিনি।
পুরোনো ক্লাব সান্তোসে লোনে পাঠিয়ে দেয়া হয় তাকে। আবার ও নিজেকে খুঁজেই পাচ্ছিলেন, সান্তোস ফুটবল ক্লাব তাকে রেখে দিতে চাইলেও আর্থিক অক্ষমতার ফলে, পরবর্তী সিজনে ম্যানচেস্টার সিটিতে আবার ফিরতে বাধ্য হন রোবিনহো। আবার ও অফফর্ম এবং তাকে তোলা হয় ট্রান্সফার মার্কেটে। ২০১০ সালের ২৯শে আগস্ট তিনি এসি মিলানে যোগ দেন অথচ শোল্ডার ডিসলোকেশন, থাই ইঞ্জুরি, গ্রোয়িন ইঞ্জুরি ততদিনে তার শরীরে জেঁকে বসেছে। ছিটকে পড়েন মূল দল থেকে।
জাতীয় দলে তিনি অপেক্ষাকৃত অনেক বেশি সফল ২০০৭ সালের কোপা আমেরিকাতে তিনি গোল্ডেন বুট জেতেন। ২০০৯ ব্রাজিল দলের হয়ে জেতেন কনফেডারেশন কাপ। কিন্তু ২০১১ তে এসেই তার পারফরম্যান্স হয়ে যায় ধ্বজভঙ্গ। ২০১৪ তে তিনি গ্যাং রেপের দায়ে দোষী প্রমাণিত হন। এভাবেই ক্যারিয়ার শেষ হয়ে যায়, একজন উদীয়মান রাজপূত্র রবিনহোর। সম্ভাবনাময় ক্যারিয়ারের অধিকাংশ লাইনের শেষটা হয়ে যায় প্রশ্নবিদ্ধ। ফুটবলের সৌন্দর্য মুছে যায়, দূর্ভাগ্য আর কদাকার জীবনে।
এখন তিনি আবারও নিজের পুরোনো ফুটবল সান্তোস ফুটবল ক্লাবে। তার বেতন ধরা হয়েছে মাত্র ২৭১ ডলার।।তবে ক্লাবের প্রতি ভালোবাসা থেকেই এত কম বেতনে, তিনি খেলছেন বলে জানিয়েছেন।