fbpx

সুন্দর-চাহালের স্পিন ঘূর্ণিতে বিশাল জয় ব্যাঙ্গালোরের

শারজাহ ক্রিকেট স্টেডিয়ামের ছোট মাঠে এবি ডি ভিলিয়ার্স ঝড়ের পর ওয়াশিংটন সুন্দর, যুজবেন্দ্র চাহালের স্পিন ঘূর্ণি ও পেসারদের নৈপুণ্যে কলকাতা নাইট রাইডার্সের বিপক্ষে ৮২ রানের বিশাল জয় পেয়েছে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালোরে। এ জয়ে কলকাতাকে টপকে তিনে উঠে এসেছে ব্যাঙ্গালোর, ৩৩ বলে ৬ ছক্কায় অপরাজিত ৭৩ রানের বিধ্বংসী ইনিংসে ম্যাচ সেরা হয়েছেন এবি ডি ভিলিয়ার্স।

১৯৫ রানের চ্যালেঞ্জিং টার্গেট তাড়া করতে নেমে মোটেও সুবিধা করতে পারেননি শুভমান গিল ও এবারের আইপিএলে প্রথমবারের মতো সুযোগ পাওয়া টম ব্যান্টন। সুনিল নারাইনের বদলে জায়গা পেয়ে ১২ বলে ৮ রানেই নবদ্বীপ সাইনির বলে বোল্ড হয়ে যান ব্যান্টন, দ্বিতীয় উইকেটে ২৮ রান যোগ করেন গিল ও নীতিশ রানা। তবে বল খরচ করেন ২৪ টি, যা পরিস্থিতির জন্য মোটেও সুখকর ছিল না।

নীতিশ রানা ১৪ বলে ১ চারে ৯ রানে আউট হওয়ার পর ২৫ বলে ৩ চার ১ ছয়ে ৩৪ রান করা শুভমান গিল রান আউটে কাটা পড়েন, ২ বলে ১ রান করা অধিনায়ক দিনেশ কার্তিককে ফেরান যুজবেন্দ্র চাহাল। ইয়ন মরগান ১২ বলে ১ চারে ৮ রানে ওয়াশিংটন সুন্দরের স্পিন ঘূর্ণিতে কাটা পড়লে ম্যাচ থেকে প্রায় ছিটকে যায় কলকাতা নাইট রাইডার্স। শেষ ভরসা ছিল আন্দ্রে রাসেল, যদি ছোট বাউন্ডারিকে কাজে লাগিয়ে দুর্দান্ত কামব্যাকের গল্প লিখতে পারেন তিনি সেই আশাতেই ছিল নাইট রাইডার্স সমর্থকেরা।

তবে সেই আশায় গুড়েবালি দিতে মোটেও সময় নেননি আন্দ্রে রাসেল, ইসুরু উদানাকে ২ চার ও ১ ছক্কা হাঁকিয়েই নিজের দায়িত্ব শেষ করেন তিনি। ১০ বলে ১৬ রানেই থামে রাসেলের ইনিংস, নিভে যায় কলকাতার জয়ের অল্প করে জ্বলতে থাকা বাতিটুকুও।

শেষ পর্যন্ত ধুকতে ধুকতে নির্ধারিত ২০ ওভার শেষে ৯ উইকেট হারিয়ে ১১২ তে থামে কলকাতা, ৮২ রানের বিশাল জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালোর। দলটির হয়ে ২ টি করে উইকেট নিয়েছেন ক্রিস মরিস ও ওয়াশিংটন সুন্দর, ১ টি করে উইকেট পেয়েছেন যুজবেন্দ্র চাহাল, নবদ্বীপ সাইনি ও ইসুরু উদানা।

  গাইকোয়াদের ব্যাটিং নৈপুণ্যে আরসিবির বিপক্ষে সহজ জয় চেন্নাইয়ের

ম্যাচের শুরুতে টসে হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালোরকে ভালো শুরু এনে দেন দুই ওপেনার অ্যারন ফিঞ্চ ও দেবদূত পাডিকাল, উদ্ভোধনী জুটিতে ৬৭ রান যোগ করে আন্দ্রে রাসেলের বলে বোল্ড হয়ে ফিরেন দেবদূত। তার ব্যাট থেকে আসে ২৩ বলে ৪ চার ও ১ ছয়ে ৩২ রান, এরপর বরুণ চক্রবর্তী, কমলেশ নাগারকোটির নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে কিছুটা চাপে পড়ে যায় অ্যারন ফিঞ্চ ও ভিরাট কোহলি।

প্রসিদ কৃষ্ণার দুর্দান্ত ইয়োর্কারে বোল্ড হয়ে ৩৭ বলে ৪ চার ও ১ ছয়ে ৪৭ রানে ড্রেসিংরুমে ফিরেন অ্যারন ফিঞ্চ, ৯৪ রানে ২য় উইকেটে হারানোর পর ক্রিজে আসেন এবি ডি ভিলিয়ার্স। এরপরই হালে পানি পায় ব্যাঙ্গালোরের ইনিংস, এক পাশে ভিরাট কোহলি ধীর গতির ব্যাটিং করলেও শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ছিলেন ডি ভিলিয়ার্স। ৬ ছক্কা ও ৫ চারে ৩৩ বলে অপরাজিত ৭৩ রানের ইনিংস খেলে শেষ ৫ ওভারে ৮৩ রান তুলে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালোরকে চ্যালেঞ্জিং সংগ্রহ এনে দেন এবি ডি ভিলিয়ার্স।

নির্ধারিত ২০ ওভার শেষে ২ উইকেট হারিয়ে ১৯৪ রানের সংগ্রহ পায় রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালোর, ভিরাট কোহলি ২৮ বলে ১ চারে ৩৩ রানে অপরাজিত থাকেন। কলকাতা নাইট রাইডার্সের হয়ে ১ টি করে উইকেট নেন প্রসিদ কৃষ্ণা ও আন্দ্রে রাসেল।

সংক্ষিপ্ত স্কোরঃ

রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালোরঃ ১৯৪/২ (এবি ডি ভিলিয়ার্স ৭৩*, অ্যারন ফিঞ্চ ৩৭, ভিরাট কোহলি ৩৩*, দেবদূত পাডিকাল ৩২, প্রসিদ কৃষ্ণা ১/৪২, আন্দ্রে রাসেল ১/৫১)।

কলকাতা নাইট রাইডার্সঃ ১১২/৯ (শুভমান গিল ৩৪, আন্দ্রে রাসেল ১৬, রাহুল ত্রিপাঠী ১৬, ওয়াশিংটন সুন্দর ২/২০, ক্রিস মরিস ২/১৭, যুজবেন্দ্র চাহাল ১/১২, নবদ্বীপ সাইনি ১/১৭)।