fbpx

অধিনায়কের আস্থা অর্জন গুরুত্বপূর্ণ মনে করছেন মার্শ

প্রায় দুই বছর পর ওয়ানডে খেলতে নেমেই দলের কঠিন সময়ে ৭৩ রানের ইনিংস খেলে লড়াই করার মতো পুঁজি এনে দিয়েছিলেন অস্ট্রেলিয়ার মিডল অর্ডারের দায়িত্ব পাওয়া অলরাউন্ডার মিচেল মার্শ। এর আগের ফিফটি ছিল ২০১৭ সালের জানুয়ারিতে, সুযোগ পেয়েই নিজেকে প্রমাণ করেছেন মার্শ। এ কারণে অস্ট্রেলিয়ান অধিনায়ক অ্যারন ফিঞ্চের বিশ্বাস, মার্শ ভবিষ্যতে মিডল অর্ডারের জন্য মুল ব্যাটসম্যান হয়ে উঠতে পারেন।

অধিনায়কের এই আস্থা বা সমর্থনকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করছেন পেস বোলিং অলরাউন্ডার মিচেল মার্শ, তার বিশ্বাস দলে জায়গা নিশ্চিত করার মতো তিনি পাবেন। মার্শের আপাতত লক্ষ্য দলে নিয়মিত পারফর্ম করে ২০২৩ বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ বাড়িয়ে তোলা। আজ দ্বিতীয় ওয়ানডেতে মাঠে নামার আগে মিচেল মার্শ বলেন, “ফিঞ্চের কাছ থেকে আস্থা অর্জন করা অবশ্যই দুর্দান্ত ব্যাপার। আমি আমার ভূমিকা জানি, আমার কী করা উচিত সে সম্পর্কেও পরিষ্কার ধারণা রাখি। যদি আপনি সেটা করতে পারি তাহলে দলে দলে নিজের জায়গাটাকে নিজেই যত্ন নিচ্ছেন।”

তিনি আরও বলেন, “এটা সত্য যে দলে নিজের জায়গা নিশ্চিত করতে খেলি না, আমি দলের হয়ে নিজের ভূমিকা ঠিকঠাক ভাবে পালনের চেষ্টা করি ও দলের জয়ে অবদান রাখি। আর এটা যদি নিয়মিত ভাবে করে যেতে পারি, তাহলে দলে খুব বেশি পরিবর্তন আসবে না।”

প্রায় ৯ বছর আগে ওয়ানডেতে অভিষেক মিচেল মার্শের, কিন্তু খেলেছেন মোটে ৫৮ ম্যাচ। তবে দলে সেভাবে সুযোগ না পেলেও নিজের কাজটা ঠিকই করে গেছেন মার্শ, ওয়ানডেতে তার ব্যাটিং গড় ৩৫.৮২। অস্ট্রেলিয়ার হয়ে মাত্র ৬ জন অলরাউন্ডারের ওয়ানডেতে ৩৫ বা তার বেশি ব্যাটিং গড় ও ৫০ উইকেট আছে, তারা হলেন – শেন ওয়াটসন, অ্যান্ড্রু সাইমন্ডস, মার্ক ওয়াহ, গ্রেগ চ্যাপেল, মাইকেল ক্লার্ক এবং ড্যারেন লেহম্যান। মিচেল মার্শের বর্তমান উইকেট সংখ্যা ৪৮, এই সিরিজেই হয়তো এই মাইলফলক স্পর্শ করবেন তিনি।

  ছোট পর্দায় আজ দেখতে পাবেন যত খেলা

মিচেল মার্শ আরও একটি জায়গায় নিজের অবস্থান পোক্ত করেছেন, গড়ে ৮ ওয়ানডেতে ১ বার ম্যাচ সেরা হওয়ার কৃতিত্ব দেখিয়েছেন তিনি। যা মিচেল স্টার্ক ও মিচেল জনসনের চেয়ে বেশি, অ্যারন ফিঞ্চ ও গ্লেন ম্যাক্সওয়েলের সমান এবং স্টিভেন স্মিথের চেয়ে ১ ম্যাচ কম। এখন পর্যন্ত মাত্র ২৪ জন ব্যাটসম্যান ৩৫ বা তার বেশি গড় নিয়ে ওয়ানডেতে ১০০০ রান করেছেন, তার মধ্যে মিচেল মার্শও একজন; এমন কি তিনি অ্যাডাম গিলক্রিস্ট, সাইমন ক্যাটিচদের চেয়েও এগিয়ে আছেন।

তবুও ওয়ানডে দলে মিচেল মার্শকে সেভাবে গুরুত্ব দেননি জাস্টিন ল্যাঙ্গার, এমন কি বিশ্বকাপেও তাকে অবহেলার শিকার হতে হয়েছে। তবে মিচেল মার্শের কাছে ওয়ানডে ফর্মেটেই সবচেয়ে বেশি আস্থা রাখেন, কারণটা অবশ্যই ধারাবাহিকতা ধরে রাখা। তিনি বলেন, “এই ফর্মেটে অবশ্যই আমি সবচেয়ে বেশি ধারাবাহিক হতে পেরেছি, তাই এতে আস্থা রাখি। আমি আমার পরিসংখ্যান খুব বেশি দেখি না, তবে অবশ্যই এই ফর্মেটটা পছন্দ করি। নিয়মিত খেলতে পারলে সেটা দারুণ হবে, সামনেই ২০২৩ বিশ্বকাপ।”

হাতছাড়া হওয়া ওয়ানডের শ্রেষ্ঠত্ব পুনরুদ্ধার করতে চাইলে ভারতে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া পরের বিশ্বকাপ জিততে হবে অস্ট্রেলিয়াকে। উপমহাদেশের কন্ডিশনে দলে ভারসাম্য রক্ষায় পেস বোলিং অলরাউন্ডার খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। তাই অধিনায়কের আস্থা ও দলের প্রয়োজনে ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারলে এই ফর্মেটে নিয়মিতই দেখা যাবে মিচেল মার্শকে, অ্যারন ফিঞ্চের চোখে দুর্দান্ত প্যাকেজ মার্শকে নিশ্চয় আর অবহেলা করবে না অস্ট্রেলিয়া।