fbpx

গিবসন মনে করেন, সামর্থ্য আছে কিন্তু বিশ্বাস নেই মুস্তাফিজের

কখনও কখনও সাধ্যের বাহিরের অনেক কিছুও বিশ্বাসের জোরে করে ফেলা যায়, আবার উল্টোটাও আছে। সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও শুধু আত্মবিশ্বাসের অভাবে সফল না হতে পারার সংখ্যাটাও নগণ্য নয়, দুটোরই সংমিশ্রণ যে ঘটাতে পারবে সেই ই হবে সত্যিকারের সফল। কিন্তু টাইগার পেসার মুস্তাফিজুর রহমানের সামর্থ্য থাকলেও তার মধ্যে বিশ্বাসের অভাব দেখছেন পেস বোলিং কোচ ওটিস গিবসন।

এই মাসের ২৭ কিংবা ২৮ তারিখে শ্রীলঙ্কা সফরে যাওয়ার কথা রয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের। সফরে স্বাগতিকদের বিপক্ষে ৩ ম্যাচের টেস্ট সিরিজ খেলবে টাইগাররা। উপমহাদেশের দল হিসেবে স্পিনই মুল শক্তি দুই দলের, তবে সিরিজ শুরুর আগে লঙ্কান টিম ম্যানেজার অ্যাসিলা ডি মেলের পেস সহায়ক উইকেটের ঘোষণা বাড়তি আলোচনার খোরাক এনে দিয়েছে। তার সাথে যুক্ত হচ্ছে বাঁহাতি পেসার মুস্তাফিজুর রহমানের টেস্ট দলে ফেরানোর প্রচেষ্টা, সব মিলিয়ে এখন আলোচনা শুধু পেস বল কেন্দ্রিক হয়ে গেছে।

দীর্ঘ ছুটি কাটিয়ে গত ৭ সেপ্টেম্বর ঢাকায় পৌঁছেছেন বাংলাদেশ দলের পেস বোলিং কোচ ওটিস গিবসন। তবে কোয়ারেন্টাইন পর্ব চলায় এখনও দলের সাথে যোগ দিতে পারেননি সাবেক এই ওয়েস্ট ইন্ডিজ পেসার। দলের সাথে না থাকলেও নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করেছেন পেসারদের সঙ্গে, দিয়েছেন প্রয়োজনীয় পরামর্শও। শ্রীলঙ্কা সফরের পেস বোলিং আক্রমণ ও মুস্তাফিজুর রহমানের টেস্ট দলে অন্তর্ভূক্তি নিয়ে কথা বলেছেন ‘দ্যা ডেইলি স্টার’ এর সাথে, সেখানেই তিনি পরিষ্কার করেছেন মুস্তাফিজকে নিয়ে তার অবস্থান।

মুস্তাফিজকে মান সম্পন্ন ও টেস্টের জন্য আগ্রহী উল্লেখ করে ওটিস গিবসন বলেন, “স্পষ্টতই, মুস্তাফিজ একজন মানসম্পন্ন বোলার। সে বাঁহাতি হওয়ায় আমাদের বিকল্প বেছে নেওয়ার সুযোগ থাকে। তাই আমরা তাকে নিয়ে ও টেস্ট ক্রিকেটে তার বাঁ হাতের দক্ষতা কাজে লাগানোর বিষয়ে আলোচনা করেছি, আমরা চেষ্টা করছি টেস্টের জন্য তাকে উদ্যমী করতে। তার স্কিল আপগ্রেড করতে কাজ করছি, যাতে সে ডানহাতিদের বিপক্ষে বল ভেতরে ঢোকায়, যেটা টেস্টে খুব দরকার। টেস্টে ভীষণভাবে সম্পৃক্ত হতে সে আগ্রহ দেখিয়েছে। আমরাও দেখছি তাকে কতটা কাজের চাপ দেওয়া যায় টেস্টের মানে নিয়ে আসতে। সে মানসম্মত সাদা বলের বোলার, মানসম্মত টেস্ট বোলার হিসেবেও আমরা তাকে পেতে চাই।”

বাঁহাতি পেসারদের গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র হচ্ছে ভেতরে বল ঢুকানো, যে কাজটা করার সামর্থ্য আছে মুস্তাফিজের। তবে তার সামর্থ্য থাকলেও নিজের উপর কোন বিশ্বাস নেই বলে মনে করেন ওটিস গিবসন। ডেইলি স্টারকে তিনি আরও বলেন, “জিম্বাবুয়ে সিরিজে তার সঙ্গে খুব অল্প সময় কাটিয়েছি। সে জিম্বাবুয়ে সিরিজে খেলেনি, কিন্তু তাকে দলের সঙ্গে রাখা হয়েছিল, যাতে আমি তাকে কাছ থেকে তদারকি করতে পারি। আর বল ভেতরে ঢোকানোর সামর্থ্য কিন্তু সে দেখিয়েছে। সে যে বল ভেতরে ঢোকাতে পারে, আমার মনে হয় না এই বিশ্বাস তার ভেতরে আছে। বল ভেতরে ঢোকানোর আভাস মিলেছে, এই কারণেই তাকে টেস্ট স্কোয়াডে নেওয়া হচ্ছে।”

ঐতিহ্যগত ভাবেই বাংলাদেশের পেসারদের এখনও ২০ উইকেট নেওয়ার সক্ষমতা তৈরি হয়নি বলে মনে করেন ওটিস গিবসন, তাই ম্যাচ জিততে হলে পেস-স্পিনের মিশেলে একটা ভারসাম্যপূর্ণ বোলিং আক্রমণের প্রয়োজন দেখছেন তিনি। গিবসন বলেন, “উপমহাদেশে কেবল পেসারদেরই ২০ উইকেট নেওয়ার অবস্থা নেই, সে কারণে আমাদের একটা ভারসাম্যপূর্ণ বোলিং ইউনিট রাখতে হবে। এতে স্পিনারদের বড় ভূমিকা থাকবেই, আমি বিশ্বাস করি সাকিবও ফিরে আসবে। আমাদের বোলিং আক্রমণ আরও ধারালো হয়ে যাবে, যারা আছে তাদের উপর আমার আস্থা আছে। আমরা তিনজন পেসার খেলাতে পারি এবং আমার বিশ্বাস, এই তিন পেসার খেলায় খুব ভালো প্রভাব রাখতে পারবে।”

  প্রেসিডেন্টস কাপের শিরোপা জিততে রিয়াদদের দরকার ১৭৪ রান

গত মার্চে সর্বশেষ আন্তর্জাতিক সিরিজ খেলেছে বাংলাদেশ দল, এপ্রিলের পর প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেটেরও বাহিরে তারা। দীর্ঘদিন পর টেস্ট ফর্মেটে মাঠে নামার আগে প্রস্তুতির একটা ঘাটতি থাকছে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে ওটিস গিবসনের অভিমত, “সেই মার্চ থেকে আমরা কোনো ক্রিকেট খেলছি না, এমনকি ঘরোয়া ক্রিকেটও না। শ্রীলঙ্কানরা অনেকদিন থেকে অনুশীলন করছে। কাজেই প্রস্তুতির দিক থেকে তারা এগিয়ে থাকবে। কিন্তু যখনই আমরা শ্রীলঙ্কায় পৌঁছাব, তখন পর্যাপ্ত অনুশীলন করে সেটা পুষিয়ে ফেলতে পারব। পাঁচ দিনের টেস্টে আমরা যদি নিজেদের সেরাটা দিতে পারি, তাহলে আমি অনুভব করি, ম্যাচ জিততে পারব। আমরা অনুভব করছি, এটা এমন একটা সিরিজ যেটায় আমরা জিততে পারি।”

শ্রীলঙ্কা সফরে যাওয়ার আগে ২১ সেপ্টেম্বর থেকে দেশেই এক সপ্তাহের কন্ডিশনিং ক্যাম্প করবে বাংলাদেশ দল, এরপর ২৭ সেপ্টেম্বর শ্রীলঙ্কার বিমানে ওঠার পরিকল্পনা করে রেখেছে বিসিবি। সিরিজের সূচি ঘোষণা না হলেও ২৪ অক্টোবর প্রথম টেস্টে মাঠে নামার কথা বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কার, তাহলে শ্রীলঙ্কায় গিয়ে প্রস্তুতির জন্য প্রায় ১ মাস সময় পাবে বাংলাদেশ দল।