fbpx

জশ ফিলিপের মাঝেই অজিদের সমাধান দেখছেন গিলক্রিস্ট

উইকেটরক্ষকের ভূমিকায় পাল্টে দিয়েছিলেন সাবেক অস্ট্রেলিয়ান অ্যাডাম গিলক্রিস্ট, উইকেটের পেছনের দায়িত্ব ভালোভাবে সামলে ব্যাট হাতে দলকে দুর্দান্ত সার্ভিস দিয়েছেন বহু বছর। অস্ট্রেলিয়ার হয়ে সর্বশেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছেন ২০০৮ এ, তারপর বেশ কজনের হাতে কিপিং গ্লভস উঠলেও কেউই নিজেকে গিলক্রিস্টের পর্যায়ে নিয়ে যেতে পারেননি।

ব্র‍্যাড হ্যাডিন, ম্যাথু ওয়েড, পিটার হ্যান্ডসকম্ব, আলেক্স ক্যারিসহ অনেকের মাঝেই আস্থা রাখার চেষ্টা করেছে অস্ট্রেলিয়া। তবে কেউই গিলক্রিস্ট তো দূরের পথ দলেই খুব বেশিদিন স্থায়ী হতে পারেননি। যেটা নিয়ে ভুগেছে অস্ট্রেলিয়া দলও, তবে এই সমস্যার সমাধান দিলেন গিলক্রিস্ট নিজেই। বর্তমানে অস্ট্রেলিয়া দলের উইকেটের পেছনে ১ নাম্বার চয়েস আলেক্স ক্যারি, ইংল্যান্ড সফরে ব্যাট হাতে যিনি মোটেও সুবিধা করতে পারছেন না।

বিজ্ঞাপন

দলে বিকল্প উইকেটরক্ষক হিসেবে আছেন জশ ফিলিপ, ২০ বছর বয়সে এই ক্রিকেটার ২০১৭ সালে শীর্ষ পর্যায়ের ক্রিকেট খেলতে শুরু করেন। সেই বছরই বিগ-ব্যাশে সিডনি সিক্সার্সের হয়ে প্রায় ১৩০ স্ট্রাইকরেটে টুর্নামেন্টের তৃতীয় সর্বোচ্চ ৪৮৭ রান করেন ফিলিপ, ফাইনালে ম্যাচ জিতিয়ে হন ম্যাচসেরা। ক্যারি যখন অস্ট্রেলিয়ানদের প্রত্যাশা মেটাতে ব্যর্থ, তখন জশ ফিলিপেই সমাধান দেখছেন অ্যাডাম গিলক্রিস্ট। তিনি মনে করেন, অস্ট্রেলিয়ার সীমিত ওভারের ক্রিকেটে ব্যাটিং সমস্যার সমাধান হতে পারেন জশ ফিলিপ।

ভয়ডরহীন ক্রিকেট দিয়েই প্রতিপক্ষকে ভড়কে দিতেন অ্যাডাম গিলক্রিস্ট, জশ ফিলিপের মাঝেও সেই দক্ষতা দেখতে পেয়েছেন তিনি। তার প্রতিভা নিয়ে রীতিমতো রোমাঞ্চিত গিলক্রিস্ট, তার মতে যত দ্রুত এই ধরনের ক্রিকেটারকে নামিয়ে দেওয়া যায় ততই মঙ্গল। গিলক্রিস্ট বলেন, “জশ খুবই রোমাঞ্চকর তরুণ এক প্রতিভা। যদিও সে এখনও শিখছে, নিজের সম্পর্কে ও নিজের সামর্থ্য এবং ম্যাচ পরিস্থিতির মতো ব্যাপারগুলি বোঝার চেষ্টা করছে। তবে যত দ্রুত এই ধরনের ক্রিকেটারদের শীর্ষ পর্যায়ে নামিয়ে দেওয়া যায়, ততই ভালো। ভয়ডরহীন ক্রিকেট দিয়ে অনেক দলকেই বিপাকে ফেলে দিতে পারে ওরা, এতে ওর আত্মবিশ্বাসও বেড়ে যাবে।”

সীমিত ওভারের ক্রিকেটে ভালো করতে হলে মানুসিকতা পাল্টানোর বিকল্প দেখেন না গিলক্রিস্ট, এমন কি ইংল্যান্ড দলটা যেভাবে পাল্টে গেলো অস্ট্রেলিয়া দলেও তিনি সেটা দেখতে চান। গিলক্রিস্ট বলেন, “সে দারুণ আগ্রাসী তরুণ একজন ক্রিকেটার। বিশ্বকাপের আগে চার বছর ধরে যে ধরনের ক্রিকেট খেলে ইংল্যান্ড শীর্ষে উঠেছে, নেতৃত্ব থেকে শুরু করে ব্যাটিংয়ের মানসিকতায় যে বদল, যেভাবে তারা সবসময় আক্রমণ করতে চায়, হয়তো কখনও কখনও সেটা কাজে দেবে না। কিন্তু এর মাধ্যমে একটি বার্তা দেওয়া যায়, ফিলিপির মতো একজন হতে পারে সেটির গুরুত্বপূর্ণ একটা অংশ।”

অ্যাডাম গিলক্রিস্টের চাওয়া দ্রুতই পূরণ হতে পারে, ইংল্যান্ড সফরে দলের প্রথম চয়েস আলেক্স ক্যারি টি-টোয়েন্টি সিরিজে ব্যর্থতার পর দলের প্রয়োজন মুহুর্তে ১০ রান করেই আউট হয়েছেন। ওয়ানডে সিরিজ শুরুর আগেই ক্যারির জায়গা নিয়ে প্রশ্ন উঠলেও অ্যারন ফিঞ্চ তার উপরই আস্থা রাখার কথা জানিয়েছিলেন, গতকালের ম্যাচের পর সেটা থাকলে কি না তা বলা অবশ্য অসম্ভব। যদি ব্যতিক্রম কোন কিছু ঘটে তাহলে কালই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক হয়ে যাবে ২৩ বছর বয়সী জশ ফিলিপের।

  ব্রাভোর বদলে উইন্ডিজের টি-টোয়েন্টি দলে শেফার্ড

ব্যাটিংয়ে কতটা আগ্রাসী জশ ফিলিপ সেটা তার লিস্ট এ ও টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ার দেখলেও বুঝা যায়। এখন পর্যন্ত ১৩ টি লিস্ট এ ম্যাচ খেলা ফিলিপ ৩৪.৩০ গড়ে ১১১.৭৭ স্ট্রাইকরেটে ৪৪৬ ও ৩২ টি-টোয়েন্টিতে ৩৩.২৫ গড়ে ১৩৮.২৫ স্ট্রাইকরেটে ৭৯৮ রান করেছেন।