পুরনো বলে পেসারদের দক্ষতা অর্জনের পরামর্শ গিবসনের

পুরনো বলে পেসারদের দক্ষতা অর্জনের পরামর্শ গিবসনের

করোনা ভাইরাসের কারণে স্থবির ক্রিকেট বিশ্ব, দীর্ঘদিন ধরে মাঠের বাহিরে বাংলাদেশ দলও। তবে ধীরে ধীরে ফেরার প্রক্রিয়া শুরু করে দিয়েছে বেশ কিছু ক্রিকেট বোর্ড, তারই ধারাবাহিকতায় এ মাসেরই ৮ তারিখে ইংল্যান্ড ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের ৩ ম্যাচের টেস্ট সিরিজ দিয়ে মাঠে ফিরছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট।

ক্রিকেট মাঠে ফিরলেও করোনা ভাইরাসের কারণে অনেক কিছুই আর আগের মতো থাকছে না, বিভিন্ন বিধিনিষেধ যুক্ত হচ্ছে খেলাটিতে। ক্রিকেটে সবচেয়ে বড় নিষেধাজ্ঞা এসেছে পেসারদের জন্য, এখন থেকে পরবর্তী ঘোষণা না আসা পর্যন্ত বলে লালা লাগানো নিষিদ্ধ করা হয়েছে। যার ফলে বলে সুইং পেতে পেসারদের বাঁধার সম্মুখীন হতে হবে। তাই তো পরিস্থিতি বিবেচনা করে পেসারদের সাফল্য পেতে পুরোনো বলে দক্ষ হতে বললেন বাংলাদেশের পেস বোলিং কোচ ওটিস গিবসন।

বাংলাদেশের ক্রিকেট সংস্কৃতি এখন আর অজানা নয় গিবসনের, তাই তো পেসারদের পুরোনো বলে বোলিংয়ের অভ্যাসটা ঘরোয়া ক্রিকেট থেকেই শুরু করা দরকার বলে মনে করেন তিনি। দেশের বাহিরে সাফল্য পেতে চাইলে পুরোনো বলে দক্ষ হওয়ার বিকল্প নেই বলে জানিয়েছেন টাইগারদের এই পেস বোলিং কোচ। তার মতে, এই জায়গায় (পেসারদের পুরনো বলে দক্ষতা বৃদ্ধি) আমাদের তাই নজর দিতে হবে। শুরুটা করতে হবে ঘরোয়া ক্রিকেট থেকেই, কারণ যেখান থেকেই পেসাররা অভিজ্ঞতা অর্জন করে।

ক্রিকেট বিষয়ক ওয়েবসাইট ক্রিকবাজকে টাইগারদের পেস বোলিং কোচ ওটিস গিবসন বলেন, “বাংলাদেশের পেসাররা পুরোনো বলে বল করার সুযোগই পায় না। বল একটু পুরোনো হতেই তা স্পিনারদের হাতে চলে যায়, তারাই ইনিংস শেষ করে আসে। ঘরোয়া ক্রিকেটেও এর ব্যতিক্রম হয় না, পেসাররা তাই পুরোনো বলে অদক্ষ থেকে যায়। বিষয়টা তাই গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করতে হবে। না হলে অ্যাওয়ে ম্যাচ গুলোতে বিপদে পড়তে হবে, বিশেষ করে পেস সহায়ক কন্ডিশনে।”

বর্তমানে পেস অ্যাটাকে নতুন-পুরাতন মিলিয়ে বেশ কিছু অপশন আছে। তরুণ পেসাররাও ভালো করছেন, সব মিলিয়ে বাংলাদেশের পেস আক্রমণ নিয়ে বেশ আশাবাদী ওটিস গিবসন। তিনি বলেন, “প্রতিটা দলেরই বিশেষজ্ঞ পেস আক্রমণ আছে। বাংলাদেশও তার বাইরে নয়, চম্পকা রমানায়েকে তরুণদের খেয়াল রাখছেন। আমাদের সংক্ষিপ্ত ফর্মেটের জন্য আল-আমিন হোসেন, শফিউল ইসলাম, মুস্তাফিজুর রহমান, মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন, হাসান মাহমুদদের মতো ক্রিকেটার হাতে আছে।”

তিনি আরও বলেন, “টেস্টের জন্য এবাদত হোসেন, আবু জায়েদ, তাসকিন আহমেদরা তো আছেন। এছাড়া বিপিএলে মেহেদি হাসান রানা ও মুকিদুলকে আমার ভালো লেগেছে, সব মিলিয়ে ১২ জনের মতো পেসার আমার হাতে আছে। আমরা তাদের বিশ্বমানের করে গড়ে তুলবো, তারা সেই পর্যায়ে যেতে না পারার কোন কারণ নেই। আমি বিশ্বাস করি তাদের সেই সামর্থ্য আছে, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তাদের সফল না হওয়ার কারণ নেই।”

করোনা ভাইরাসের কারণে বাংলাদেশের এ বছরের সবগুলো দ্বিপাক্ষিক সিরিজই স্থগিত হয়ে গেছে, স্থগিতের সম্ভাবনা আছে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ও এশিয়া কাপ টুর্নামেন্টেরও। যদি সে গুলোও শেষ পর্যন্ত স্থগিত হয়ে যায়, তাহলে এ বছর আর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে দেখা যাবে না রুবেল, মুস্তাফিজদের।

CATEGORIES
TAGS