ফিচারঃ স্বপ্ন যাত্রার সুখময় সেই মুহুর্তগুলো

ফিচারঃ স্বপ্ন যাত্রার সুখময় সেই মুহুর্তগুলো

সজলভ্রুর গিরিপথে যদি ফিরে তাকাই হারানো সেই অতীতের সেই সোনালী দিন গুলোয়, দেহ যেন তাতে শিহরিত হয়ে উঠে, রক্তে উত্তাপ অনুভূত হয়, অজানা মিষ্টি আনন্দে মন উৎফুল্লিত হয়। আহা! কি সুন্দর ছিল সেই দিন গুলো….। পুরো বঙ্গ-ভূমি প্রতিটি দিনই তখন নতুনত্বের ভিন্ন আমেজের অপেক্ষায় থাকতো, চেয়ে থাকতো বাইশগজের ওই এগারোর পানে।

সময়টা ২০১৫! বাংলার বাঘেদের সেবার পুনর্জন্ম হয়েছিল। না..না…সুন্দরবনের ওই রাক্ষুসে বাঘ নয়, বাইশগজের আগ্রাসী বাঘ হয়ে! পুনর্জন্ম বলতে, উদ্দেশ্য নব জাগরণ। নব্য আগত তরুণ বাঘেরাও স্বরে স্বরে সুর মিলিয়ে গর্জে উঠেছিল পুরোনোদের সাথে। তরুণ-বুড়োর সমন্বয়ে, উদ্যম আর অভিজ্ঞতার মিশ্রণে সেবার অদম্য দূর্দমনীয় পুরো বাঘ দল।

বিশ্বমঞ্চে ওই ব্রিটিশ বধ থেকে যার সূচনা। আর ভারত থেকে তীব্র আঘাত পাবার পর তা যেন আরও শাণিত হয়। স্বপ্নের কোয়ার্টার ফাইনাল সত্যি করে বাঘের দল দেশে ফেরে। আর নিজ ডেরায় ফিরে পণ করে লড়ে যাব চোঁখে চোঁখ রেখে। হারার আগে হার নয়, লড়াই লড়াই লড়াই চাই; লড়াই করে এগোতে চাই।

আজহার আলির পাকিস্তান এলো এবার ডেরায়। সঙ্গী সদ্য নিষেধাজ্ঞা থেকে ফেরা সাইদ আজমল। হালের সেরা স্পিনারের তকমাটাও তখন গায়ে। ব-দ্বীপের ভূমিতে হয়ে উঠতে পারেন পাক-পাঠানদের তুরুপের তাস! সাপের ন্যায় ফনা তোলা বিষাক্ত স্পিনের মরণ ছোবল হানতে সক্ষম বাঘেদের গায়।

কিন্তু হায়! সিরিজ শেষে দেখা গেল,স্বয়ং আজমলই বাঘের থাবায় ক্ষত-বিক্ষত। যা তাকে ভোগায় আজও। মরণ ছোবল দিতে এসে বাঘের আক্রমণে তাঁর ক্যারিয়ারই যেন মরে বসলো। পাক-বোলারদের পাড়ার বোলার বানিয়ে পাঠানদের হাপিত্যেশ সৃষ্টি করে বাঘেরা ওয়ানডে সিরিজ জিতলো ৩-০ ব্যবধানে, যাকে বলে বাংলা ওয়াশ!

অথচ পাকিস্তানের বিপক্ষে একটা জয়ের জন্য কতো হাহাকার করেছে বাংলাদেশ। তীরে এসে তরি ডুবেছে অসংখ্য ম্যাচে, ফলে আনমনে কেঁদে অশ্রু চোখে বাঘেরা মাঠ ছেড়েছে বহুবার-বহুম্যাচে। তবে এবার হলো অপেক্ষার অবসান। দীর্ঘ ১৫ বছরের আক্ষেপ ঘুচলো অবশেষে। পাকিদের বিপক্ষে শেষ জয়টা যে ছিল ১৯৯৯ সালে, আর এরপর আজ ২০১৫ সালে এসে হারালো ৩-০ ব্যবধানে।

  ফিচারঃ সৌরভের সৌরভে বিমোহিত বিশ্ব

আফ্রিদি আসলো টি-টোয়েন্টি কাপ্তান হয়ে। হুংকার দিল, আর ছাড় দিবেনা পাকিস্তান। কিন্তু এবারও ধ্বস নামলো পাক শিবিরে। জয়ী দলের নাম আবারও বাংলাদশ। টেস্ট সিরিজেও যথেষ্ট ভালো ফলাফল আসলো। তামিম তো ছুঁলেন দ্বি-শতকও!

এবার বাঘের লেজে পা দেয়ার পরিনাম টের পেলো ভারত দল। তরুণ তুর্কি মুস্তাফিজের দূর্ভেদ্য কাটারে কাটা গেলো ওদের দর্প। বিশ্বকাপের প্রতিশোধ বাঘেরা তুলে নিল হাড়ে-হাড়ে। সমৃদ্ধ ব্যাটিং অর্ডারে কাঁপন উঠলো, কাঁপন উঠলো তাদের নিজ দেশ ভারতেও। বিধ্বস্ত হলো ২-১ ব্যবধানে। প্রথমবারের মতো ভারতের বিপক্ষে সিরিজ জয়!

সাউথ আফ্রিকা টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে নিজেদের আধিপত্য প্রকাশ করলেও, ওয়ানডেতে যেন খেই হারালো। সৌম্যের সৌন্দর্যে বিধ্বস্ত হলো ওরা। সেই ম্যাচগুলোর কথা মনে হলে আজও চোঁখে ভাসে সেই মুহুর্তটা, রুবেলের বলে হাশিম আমলার স্ট্যাম্প গড়াগড়ি খেলো যেথায়, একে একে পাঁচ বার! বাঘেরা এবারও সিরিজ জিতলো ২-১ ব্যবধানেই। টেস্ট সিরিজ ড্র.

বদলে যাওয়া ইংল্যান্ড পরিস্থিতি বদলে দিল। ২-১ এবার ওরা জিতে নিলো। তবে আফসোস ছিল, ভাগ্য বিধাতা সহায় হলে হয়তো ফলাফলটা ভিন্ন হতো। তবে তার প্রলেপ হলো টেস্ট সিরিজে। ইংল্যান্ডকে টেস্টে হারানো! রীতিমতো ঝড় বইয়ে দিলো ক্রিকেট পাড়ায়। এ যে অবিশ্বাস্য এক অর্জন।

মাঝে আফগানিস্তান আর জিম্বাবুয়ের সাথেও লড়াই হয়েছিল। আফগানিস্তানকেও ২-১ হারিয়ে সিরিজ জিতেছিল বাংলাদেশ। আর জিম্বাবুয়েকে বাংলা ওয়াশ দিয়ে বিদেয় করেছিল হঠাৎই অপ্রতিরোধ্য হয়ে উঠা বাঘের দলটা। এই পথচলায় বাঁধা এলো। থামতে হলো এবার। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ওদের মাটিতে ওয়াশ হলো ৩-০ ব্যবধানে। আর তাতেই শেষ হলো এই স্বপ্ন যাত্রার।

CATEGORIES