‘পেলের মত মেসি কারিকুরি করতে পারেনা, রোনালদো পাস দিতে পারেনা’

‘পেলের মত মেসি কারিকুরি করতে পারেনা, রোনালদো পাস দিতে পারেনা’

বিশ্বকাপের ইতিহাসে সেরাদের সেরা কে খুঁজলে ব্রাজিলীয়দের নাম ই আসবে। সেটার মূল কারণ ১৯৭০ বিশ্বকাপে মেক্সিকোতে দ্যুতি ছড়ানো। বিশ্বকাপের আগে চোখের অস্ত্রোপচার করানোর কারণে টোস্টাওয়ের অনিশ্চিত হয়েছিল বিশ্বকাপ। যে ডাক্তারগণ করেছিলেন এই অস্ত্রোপচার, তারা বলেন “জীবনে অনেক চোখের অস্ত্রোপচার করেছি। সব ক্ষেত্রেই প্রথম প্রশ্নটা থাকে ‘আমি আমার দৃষ্টিশক্তি কবে ফিরে পাব?’, অথচ এই টোস্টাওয়ের প্রথম প্রশ্ন ছিল, আমি কি বিশ্বকাপ খেলতে পারব?”

কিন্তু সে বিশ্বকাপে দলের হয়ে খেলার সুযোগ শেষ অব্দি পেয়েছিলেন টোস্টাওয়ে। সে মূলত প্লেমেকার হলেও সেবার পরের ম্যাচেই দলে মূল স্ট্রাইকার হিসেবে খেলেন। বাকিটুক তো ইতিহাস থেকেই জানা যায়! ১৯৬৬ বিশ্বকাপের দলেও ছিলে টোস্টাও। সেবার মাঠে নেমেছিলেন পেলের ‘বিকল্প’ হয়ে। ‘৭০ এর বিশ্বকাপে সেই পেলের পাশেই খেলেছেন!

টোস্টাওয়ের কাছে সর্বশ্রেষ্ঠ প্লেয়ার হিসেবে পেলেই সবচেয়ে এগিয়ে থাকেন সব সময়। হয়তো সবচেয়ে কাছ থেকে তাকে দেখার অভিজ্ঞতার কারণেই। ফিফার এক সাক্ষাৎকারে তাকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, এত বছর প্রায় সব সেরাদেরই (ডিয়েগো ম্যারাডোনা, লিওনেল মেসি, ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো) তুলনা হয়েছে পেলের সাথে। উনার মতে সেরা কে? সেটার উত্তরে টোস্টাওয়ে বলেন “আমার চোখে পেলে এঁদের সবার চেয়ে ভালো। আমার কাছে এখানে কোনও তুলনার প্রশ্নই আসেনা পেলে অনেক অনেক বেশি পূর্ণাঙ্গ ফুটবলার ছিলেন। একজন ফরওয়ার্ড এর যত গুণ থাকা সম্ভব, তার সবই তাঁর ছিল। কোনও খুঁত ছিলনা তার।”

মেসি রোনালদোর চাইতেও পেলে কেন ভালো সেটাও বলেছেন টোস্টাও, “ম্যারাডোনার খেলা দেখার জন্যে দারুণ ছিল, কিন্তু শারীরিকভাবে সে পেলের পর্যায়ে ছিল না। পেলের মত অতো গোলও তার নেই। মেসির খেলাও দারুণ, কিন্তু পেলের মত হেড সে করতে পারেনা, দুই পায়ে এত ভালো শট নিতে পারেনা, পেলে যেরকম দূর্দান্ত কারিকুরি দেখাত, সেগুলোও মেসির মধ্যে দেখা যায়না। রোনালদোর ক্ষেত্রে বলতে গেলে, সে ভালো খেলোয়াড় কিন্তু পেলের মত দারুণ সব পাস তার দেবার সামর্থ নেই। সে সেরকম পারেনা।”

টোস্টাও তারপরেই পেলের মতো ফুটবলার পেতে হলেই কি করতে হবে, সেটা বলেন। “আপনি যদি মেসি-রোনালদোর সব গুণ নিয়ে একসঙ্গে যোগ করেন, তখন পেলের সঙ্গে তুলনা করার মতো একজন খেলোয়াড় পাবেন।”

CATEGORIES