এক যুগ ধরে চেয়েও কোচের চাকরি পাচ্ছেন না রফিক

এক যুগ ধরে চেয়েও কোচের চাকরি পাচ্ছেন না রফিক

বাংলাদেশের ক্রিকেটে অনেক প্রথমের নায়ক মোহাম্মদ রফিক। ১৯৯৮ সালে কেনিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশের প্রথম ওয়ানডে জয়ের নায়ক, জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে প্রথম টেস্ট জয়েও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন, বাংলাদেশের প্রথম বোলার হিসেবে ওয়ানডে ও টেস্টে ১০০ উইকেট শিকারিও তিনিই। মোহাম্মদ রফিকের কীর্তি ও অর্জন পরিসংখ্যান দিয়ে প্রকাশ করা সম্ভব নয়, সব মিলিয়ে বর্নাঢ়্য এক ক্রিকেট ক্যারিয়ার।

ক্রিকেটার হিসেবে দেশকে প্রতিনিধিত্ব করার পর ইচ্ছে ছিল ক্রিকেটের সাথে থেকেই কোচের চাকরির জন্য বিসিবির কাছে অনুরোধ করেছিলেন মোহাম্মদ রফিক, ক্যারিয়ারের ইতি টানার পর রফিক যে ইচ্ছে প্রকাশ করেছিলেন, তা আজ পর্যন্ত পূরণ হয়নি। অবসরের পর মোহাম্মদ রফিক বলেছিলেন, “আমি মাঠের মানুষ, মাঠেই থাকতে চাই। কোচিং থেকে শুরু করে না হয় কিউরেটরের কাজ করে হলেও ক্রিকেটের সঙ্গে জড়িয়ে থাকার ইচ্ছে রাখি”

গতকাল রাতে নটআউট নোমানের সাথে লাইভে মোহাম্মদ রফিক আক্ষেপ করে বলেছেন, “কত বছর আগে ক্রিকেট থেকে রিটায়ার্ড করেছি। কিন্তু ক্রিকেটে কোন জব করতে পারছি না, অনেক জনের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। কতজনকে বলছি, রিকুয়েস্ট করেছি। কিন্তু কেউ আমাকে কোন কাজ দেয়নি। আশ্বাস দিয়ে বলেছে, ঠিক আছে আমরা ব্যস্ত আছি। পরে বলবো, পরে বলবো- পরে বলতে বলতে তো ১২ বছর চলে গেল। শেষপর্যন্ত আমার আর ক্রিকেট বোর্ডে কোন কোচের চাকরি হয়নি”

ক্রিকেটের প্রতি টান থেকেই কাজ করতে চান তিনি, তাকে প্রাপ্য অর্থ দিলেই খুশি হবেন। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের কাছে দয়া বা দান চাননি উল্লেখ করে মোহাম্মদ রফিক বলেন, “আমি তো আর কারও দান-দয়া চাচ্ছি না। আল্লাহর রহমতে শরীর সুস্থ আছে, আমি এখনও ফিট আছি। আল্লাহর রহমতে শরীরে শক্তি আছে। আমি বিশ্বাস করি ক্রিকেটের জন্য কাজ করেই উপার্জন করতে পারব এবং আমি কোন আকাশ ছোঁয়া ডিমান্ডও নেই আমার, আমার কাজ অনুপাতেই যেন অর্থ দেয়া হয় আমাকে”

  ক্লাবের কাছ থেকে ক্রিকেটারদের পাওনা আদায়ে উদ্যোগ কোয়াবের

দেশীয় প্রতিভার মূল্যায়ন বাংলাদেশের ক্রিকেটে করা হয় না বলে আক্ষেপ ঝড়েছে মোহাম্মদ রফিকের কণ্ঠে, নিজের উপলব্ধি তো আছেই। বাংলাদেশের ক্রিকেটের উন্নতি হলেও পরিস্থিতির কোন উন্নতি হয়নি জানিয়ে রফিক বলেন, “আমরা কিন্তু অবসরের পর মনে হয় সেই ওসমান ভাইয়ের অবস্থায়ই আছি। আমাদেরও কোন কদর নেই, যথাযথ মূল্যায়নের অভাব। আজকে দেখেন, কত বছর ধরে অবসর নেয়ার পরও বোর্ডের কোন কোচের চাকরি পাইনি। দেখা যাচ্ছে, ওসমান ভাই-আলতাফ ভাইদের (দেশের সাবেক কোচ) জীবনের মতই আমাদের অবস্থা হয়েছে”

জাতীয় দলে না হলেও মোহাম্মদ রফিকদের মতো প্রতিভাকে ঘরোয়া ও বয়স ভিত্তিক ক্রিকেটে কাজে লাগাতে পারলে এ দেশের ক্রিকেটের লাভ হবে, দেখা যাক মোহাম্মদ রফিকের এই আপেক্ষের জবাব কিভাবে দেয় বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের কর্তা-ব্যক্তিরা।

CATEGORIES
TAGS