ফিচারঃ বিশ্বসেরার স্যালুট থেকে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন।

ফিচারঃ বিশ্বসেরার স্যালুট থেকে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন।

◾৩০ অক্টোবর ২০১৬, রবিবার। শেরে বাংলায় সেদিন বাঘে সিংহের লড়াই। শুরুর দিকটায় খানিকটা আধিপত্য ছড়ালেও হঠাৎ-ই ধস সিংহ শিবিরে। অবশ্য তখনও সম্ভাবনার শেষ বিন্দু হয়ে বাইশগজে দাড়িয়ে পাহাড়সম চাপ পিঠে স্বীকৃত শেষ ব্যাটসম্যানটি। পুরো সিংহ দল আর সিংহ সমর্থক তাকিয়ে সেই শেষজন পানে। পারবে কি সেই জন অনামিশা ভেদ করে সিংহের জয় গর্জন হাকতে?

না… সেদিন পারেন নি তিনি। পারেননি চাপকে জয় করতে; পারেননি শেষ ভরসা অবস্থায় সিংহের দলকে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌছে দিতে। হয়েছিলেন ব্যর্থ; তবে পেয়েছিলেন সম্মান। প্যাভিলিয়নে ফেরার পথে সঙ্গী হয়েছিলো বাঘ শিবিরের বিশ্বসেরার থেকে এক ভিন্নধর্মী “স্যালুট”!

◾৩ এপ্রিল ২০১৬। কলকাতার নন্দনের সন্ধ্যেটা সেদিন ক্রিকেট-আনন্দের সমস্ত সজ্জায় সজ্জিত। নান্দনিক ক্রিকেটের অনিন্দ্য আয়োজনে নানান রঙের ক্রিকেট পুষ্পের সমাহার। নগর কলকাতার ফ্লাইওভার-ধ্বসের বিভীষিকা কেটে গিয়ে সেখানে কেবল ক্রিকেট কাননের জয়জয়কার। সেদিন যে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ফাইনাল!

ক্রিকেটের পূন্যভূমি কলকাতার ঐতিহাসিক ইডেন গার্ডেনে, অপূর্ব ক্রিকেট সৌন্দর্য্যের সেই রজনীটা একজনের জীবনে এলো দুঃসহ যন্ত্রণা হয়ে। নিয়ন্ত্রণ অনেকটা সিংহ শিবিরেরই ছিলো। বিশেষ করে যখন শেষ ওভারে প্রায় কুঁড়ি প্রয়োজন। তবে, হঠাৎ-ই উঠা ঝড়ে সব লণ্ডভণ্ড শেষ সময়ে; সমাধি একটা স্বপ্নের! ৬, ৬, ৬, ৬ বিলিয়ে সেদিনের খলনায়ক তিনি।

__এরই মাঝে গায়ে জড়েছে ইংলিশ ক্রিকেটের ‘ব্যাড বয়’ তকমাটা; ক্যারিয়ারটাও শেষ হয়ে যেতে পারতো তার। ব্রিস্টলের নাইটক্লাবে মারামারি করে দৌঁড়াতে হলো আদালতের অাঙ্গিনায়। দল থেকে নাম কাটা গেল তার; তিনি এখন অনিশ্চয়তার নৌকায় এক গন্তব্যহীন যাত্রী।

অতঃপর যখন মাসকয়েকের বিরতি শেষে ফিরলেন ক্রিকেটে, অস্বস্তি তখনও বহমান! অবশেষে স্বস্তি মিলল ভারতের বিপক্ষে, এজবাস্টনে। রাখলেন তার নিবেদন আর বদলে যাওয়ার অনন্য আর অকাট্য প্রমাণ! শোকে পাথর না হয়ে শোককে করলেন শক্তি, ফিরলেন নতুন রূপে নিজেকে গড়ে।

পরের গল্পটা নিটোল কল্পনা কিংবা দক্ষিণ ভারতের ভীষণ অবাস্তব সিনেমাগুলোকেও হার মানানো এক চিত্রনাট্যের নাটের। এবার আর খলনায়ক বা ভিলেন চরিত্রে নয়; পুরো রূপকথা গল্পের নায়কের ভূমিকায়!

  ফিচারঃ সৌরভের সৌরভে বিমোহিত বিশ্ব

◾১৯’এর চেয়ে রোমাঞ্চকর বিশ্বকাপ ফাইনাল কি কভুও দেখেছে ক্রিকেট দুনিয়া? এ নিয়ে বিতর্ক হতেই পারে! কিন্তু যে ফাইনাল হয়ে গেল সেবার লর্ডসে, তা যে বিশ্বকাপ ইতিহাসের অমরত্বের পাতায় বড় জায়গা নিয়েছে, এ নিয়ে সন্দেহের অবকাশ নেই বিন্দুমাত্র।অবিশ্বাস্য নৈপুণ্যে অতিমানবীয় চোখ ধাঁধানো এক ইনিংসে ইংল্যান্ডকে বিশ্বকাপ পাইয়ে দেয়া প্রথম বিশ্বকাপ শিরোপার নায়ক এবার তিনি!

◾দ্য অ্যাশেজ! ছাইভস্ম ঘিরে সবচেয়ে প্রাচীন এবং ক্রিকেটের সর্বোচ্চ বনেদী লড়াই। আভিজাত্য আর অহমের লড়াই। । ১-০ তে পিছিয়ে গেলে অস্ট্রেলিয়া থেকে আর ফেরানো যাবে না ছাইভস্মটা। কি হবে এবার? শেষ উইকেটে ৭৬ রানের জুটিতে- যেখানে একজনের অবদান মাত্র ১ রান, সেখানে নিশ্চয়ই অপরজন ছাপিয়েছেন অতিমানবের সীমানাটাও!
রূপকথাকেও ছাপিয়ে পাওয়া এই জয়টার নায়কও তিনি; তিনিই সেই অপরজন!

◾কেপটাউনের মাটিতে দক্ষিণ আফ্রিকাকে টেস্ট হারানো! এই কীর্তিগাঁথা যে ভুলতে বসেছিলো থ্রি লায়ন্সের দলখান। তবে একজনের ব্যাটিং,বোলিং আর ফিল্ডিং ভূমিকায়, বলতে গেলে তার দুর্দান্ত নৈপুণ্যে কেপটাউনে ৬৩ বছর পর ইংল্যান্ড আবারো হারিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকাকে। দুই ইনিংসের ৪৭ আর ৭২ রান, সাথে ৩ উইকেট আর ৬টি ক্যাচ— ইংল্যান্ডের টেস্ট জয়ের নায়ককে সেই একজন।

– প্রশ্ন আসে তিনি কে? ক্রিকেট ইতিহাসের অন্যতম ক্ল্যাসিক ম্যাচেগুলোর রেশে আর মুগ্ধতায় কানে ভেসে আসা কমেন্ট্রিবক্সের চেনা স্বরে আর সুরে বলছি তার পরিচয়।

‘হোয়াট অ্যান ইনিংস, হোয়াট অ্যা প্লেয়ার! টেক অ্যা বাউ বেন স্টোকস। দ্য অ্যাশেজ ওয়েল অ্যান্ড ট্রুলি অ্যালাইভ বিকজ অফ ওয়ান ক্রিকেটার, অ্যান্ড দ্যাট ক্রিকেটার ইজ বেঞ্জামিন স্টোকস। দ্য ক্রিকেটার ফর ইংল্যান্ড ইন টু থাউজেন্ড নাইন্টিন।’

তিনি বেঞ্জামিন অ্যান্ড্রু স্টোকস! ক্লান্তিহীন যার বাঁহাতে বারবার স্বপ্নসারথী হয়ে ইংলিশ ক্রিকেটের স্বপ্নরথ বয়ে চলে। যিনি করতালিতে সিক্ত হন, ভালোবাসায় ঋদ্ধ হন; আবার সমালোচনায়ও বিদ্ধ হন সময়ে-ক্ষণে। ইংল্যান্ড যেনো তার মাঝে দেখা পেয়েছে বোথাম ফ্লিনটফের উত্তরসূরীর; হয়তো আরেকটু এগিয়ে। কারণ, তিনি বিশ্বচ্যাম্পিয়ন!

  ফিচারঃ সৌরভের সৌরভে বিমোহিত বিশ্ব

ইংল্যান্ড দলটায় বৈচিত্রের শেষ নেই। কেউ এসেছেন ছোট কোনো শহর থেকে; কেউ এসেছেন ভিন্ন দেশ থেকে। কেউ বা জন্ম নিয়েছেন অন্য দেশে, কেউ বেড়ে উঠেছেন অন্য কোথাও। নানা দেশের, নানা বর্ণের, নানান জাতির, নানান ধর্মের সমারোহ এই দলটায়; শুধু মাত্র ক্রিকেটের নেশায়।

তাদেরই একজন বেঞ্জামিন এন্ড্রু স্টোকস। নিউজিল্যান্ড থেকে এসেছেন ইংল্যান্ডে; গায়ে তুলেছেন থ্রি লায়ন্সের জার্সি। আজ ৪ জুন তার ২৯ তম জন্মদিন। আজকের এই দিনে ১৯৯১ সালে নিউজিল্যান্ডে তার জন্ম। শুভ জন্মদিন বেন স্টোকস!

– আফফান উসামা, ক্রীড়া প্রতিবেদক ৷

CATEGORIES