ফিচারঃ জীবন গল্পে এতো অধ্যায় আর আছে কার?

ফিচারঃ জীবন গল্পে এতো অধ্যায় আর আছে কার?

স্টিভেন স্মিথ! কি দিয়ে কিংবা কিভাবে করবো তাঁর মূল্যায়ন? কিভাবে লিখবো তাঁর গল্পটা? তাকে কি কলমের কালিতে ফুটিয়ে তোলা সত্যিই সম্ভব? না শুধুই বিলাসীতা! লিখতে যখন হবেই তবে, শুরুটা হবে কিসের দ্বারা?

জীবন গল্পে এতোগুলো অধ্যায় হয়তো আর কারও নেই, যতগুলো অধ্যায় আছে এক স্মিথের জীবনের পথচলায়! ক্রিকেটের পূর্বের গল্পটা লিখবো না ক্রিকেটের গল্প? যদি ক্রিকেটের গল্প লিখি তবে লিখবো কোন অধ্যায়টা? কি লিখবো? কয়টা লিখবো? দিন ফুরোলেই কি লিখে শেষ হবে? অধ্যায় থেকে অধ্যায় খুঁজে বেড়াই, আকর্ষণের কমতি নেই যে কোনটায়!

ক্রিকেটে আগমনী না অবনমী? উত্থান-পতন নাকি অবাক বিস্ফোরণ? ১১’অ্যাশেজ না ১৩’অ্যাশেজ? নাকি সব ছাপিয়ে ১৯’ এর দূর্বার স্মিথ? লেগ স্পিনার না ব্যাটসম্যান? অলরাউন্ডার বললেই বাঁধা কোথায়? শুধুই ব্যাটসম্যান না বিশ্বসেরা ব্যাটসম্যান? ১৫’ বিশ্বচ্যাম্পিয়ন দলের রান মেশিন স্মিথ? অধিনায়ক স্মিথ না অদম্য স্মিথ? না শুধুই পরিসংখ্যান?

সংক্ষেপে গল্পটা এমন- এসেছিলেন শেন ওয়ার্নের উত্তরসূরী হয়ে, লেগ স্পিন নিয়ে। যতটা না সফল, তার থেকেও ঢের ব্যর্থ। এবার ফিরলেন ১৩’ সালে; এবার অলরাউন্ডারের ভূমিকায়। অতঃপর সেই স্বপ্নের ১৩’ অ্যাশেজ; যেনো উড়তে চাইলেন এবার। তবে বোলার কিংবা অলরাউন্ডার নয়; পুরোদস্তুর ব্যাটসম্যানের ভূমিকায়!

নিজের দেশে ১৫’বিশ্বকাপটা রাঙালেন নিজের মতো করে; দলটাও বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হলো। ভাগ্য বিধাতার হলো তাকে ইচ্ছে আরও দেবার; নেতৃত্বের ঝান্ডা হাতে এলো এবার। অধিনায়কত্বের ফর্মটা যেন আরও ধারালো, আরও দূর্বার। এবার বিধাতার ভিন্ন ইচ্ছে; তার বল টেম্পারিং কেলেংকারীতে! নিষেধাজ্ঞা আসলো এক বছরের; কি হবে এবার?

ফিরলেন বছর খানেক পরে। যেখানে থেমেছিলেন, সেখান হতেই। সেই অগ্নিরূপে সেই অনবদ্যতায় যেন সেই দূর্বার স্মিথ! ১৯’বিশ্বকাপটা মিশ্র অনুভূতির তবে ১৯, অ্যাশেজটা শুধুই তাঁর! রেকর্ডের পর রেকর্ড ভেঙে, নতুন কীর্তিগাঁথা লিখেছেন স্বীয় উইলো হাতে!

একজনের উত্থানের উপাখ্যান গল্পের শুরুটা সর্বদাই অন্যজনের পতনের গল্প থেকে” – তেমনিভাবে স্মিথের উপর ব্যাটিং এর দ্বায়িত্বটা বেড়ে যায় ২০১০ এর পরে মার্কাস নর্থ, ব্র্যাড হ্যাডিনদের ফর্মের দ্বারাটা ক্রমশ হ্রাসে। আর ব্যাটসম্যান স্টিভ স্মিথের অজি মিডল অর্ডারে একটা আলাদা জায়গা হয়ে যায় ২০১৩ সালে মাইকেল হাসির অবসরে।

  ফিচারঃ সৌরভের সৌরভে বিমোহিত বিশ্ব

ব্যাটসম্যান স্মিথ ব্যাটিং গ্রামারের ক্লাসের এক নম্বর রোলধারী ছাত্র হয়তো নয়; তবে সময় অনুপাতে খেলতে তার জুড়ি মেলা ভার। প্রতিনিয়ত যা শিখছেন তা মাঠে গিয়ে করে দেখানোর ক্ষমতাটা বিশাল। শট প্লেইসমেন্ট অসাধারণ , স্পিনে ভালো স্লগ করতে পারেন। তবে দিনশেষে বড় বৈশিষ্ট্য ভালো স্ট্রাইক রোটেশনের ক্ষমতা; অবস্থা বুঝে খেলার প্রবনতা।

তাই, আজ আধুনিক ক্রিকেটের রোল মডেল তিনি; গায়ে বিশ্বসেরার তকমা। বোলার নয়, অলরাউন্ডার নয় ব্যাট হাতে ব্যাটসম্যান হয়ে! সবুজে ঘেরা সেই বাইশগজের ক্যানভাসটায়, রোজ মুগ্ধতার রং আর সুবাস ছড়িয়ে বিমোহিত করেন প্রতি ক্রিকেটপ্রেমীর প্রাণ! অসাধারণ, অবিশ্বাস্য, দুর্দান্ত’- শব্দগুলো বেড়িয়ে আসে ভালোবাসার প্রতীক হয়ে।

সেদিনের সাদাসিধে লেগ স্পিনার স্মিথ বা আজকের বিশ্বসেরা স্মিথ; বলতে পারেন অধিনায়ক স্মিথ কিংবা অদম্য স্মিথ, তবে অধ্যায়শেষে গল্পটা একজন স্টিভেন স্মিথের। যেই স্মিথের জন্ম আজকের এই দিনে ১৯৮৯ সালে অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে। স্মিথের পারিবারিক নামটা শুনবেন? স্টিভেন পিটার ডেভেরিউক্স স্টিভ স্মিথ; আশাকরি মনে রাখবেন।

শুভ জন্মদিন স্মিথ!
আশাকরি আলো ছড়াবে আরও দীর্ঘদিন।

– আফফান উসামা, ক্রীড়া প্রতিবেদক৷

CATEGORIES