বিশ্বসেরা দশ স্টেডিয়ামঃ আজ দ্য ওয়েম্বলি

বিশ্বসেরা দশ স্টেডিয়ামঃ আজ দ্য ওয়েম্বলি


 

ফুটবল খেলায় প্লেয়ার, বল ও সরঞ্জাম বাদেও অন্য যে জিনিসটা সবচেয়ে বেশী প্রয়োজনীয় সেটা হলো ফুটবল মাঠ। একটি সুন্দর ফুটবল মাঠই দিতে পারে একটি সৌন্দর্য্যবর্ধিত ম্যাচ। তাই একারণেই প্লেয়াররাও সব সময় সুন্দর ও বড় মাঠ চায় যেখানে তারা নিজেদের প্রতিভা বিকাশ করতে পারবে।
সারা পৃথিবীতে স্পোর্টসের জন্য হাজার হাজার স্টেডিয়ামের মধ্যে কিছু স্টেডিয়াম আছে যেগুলা একটু বেশিই নজর কাড়া হয়।
এদের মধ্যে অন্যতম হলো ইংল্যান্ডের “ওয়েম্বলি স্টেডিয়াম”

আজ আমরা জানবো বিখ্যাত এই স্টেডিয়াম সম্পর্কেঃ

ইংল্যান্ডের শহর লন্ডনের প্রাণ কেন্দ্রে এই ওয়েম্বলি স্টেডিয়ামের অবস্থান। এটি ইংল্যান্ডের সবচেয়ে বড় ও ইউরোপের মধ্যে ২য় সর্বোচ্চ বড় স্টেডিয়াম।
১৯২৩ সালে এই স্টেডিয়াম তৈরি করা হয়। যার ধারণ ক্ষমতা ছিল ৮২ হাজার।
এই স্টেডিয়ামে প্রতিবছর ইংলিশ লীগ কাপের ফাইনাল অনুষ্ঠিত হয়। ১৯৫৩ সালের এফএ কাপ ফাইনালের ম্যাচকে “ম্যাথিউস ফাইনাল” উপাধি দেওয়া হয়। ব্লাকপুলের স্ট্রাইকার স্টেইনলি ম্যাথিউস ৩৮ বছর বয়সে ৩ বারের চেস্টায় সেবার চ্যাম্পিয়নস হতে পেরেছিলেন তাই তার নামে এ ফাইনাল উপাধ্য দেওয়া হয়।

১৯৫৬-৭১ পর্যন্ত গ্রেট ব্রিটেনের হোম ভেন্যু হিসেবে এই স্টেডিয়াম ব্যবহার করা হয়।
১৯৬৬ বিশ্বকাপে এখানে ফাইনাল সহ ৯ টি ম্যাচ হয়।

এছাড়া ১৯৯৬ সালের ইউরোতে ইংল্যান্ডের সব গুলা ম্যাচ এখানে আয়োজন করা হয়।
এই মাঠে ৫ বার ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়ন কাপের ফাইনাল আয়োজন করে উয়েফা।
১৯৬৩ সালে মিলান ও বেনফিকার মধ্যকার ম্যাচ দিয়ে যাত্রা শুরু হয়। এরপর ১৯৬৮, ১৯৭১, ১৯৭৮ ও ১৯৯২ সালে অনুষ্ঠিত হয়।
এছাড়া ১৯৯৮-২০০০ পর্যন্ত আর্সেনালের হোম ভেন্যু হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

২০০০ সালের ২রা মে শেষ বারের মত এফএ কাপ ফাইনাল অনুষ্ঠিত হয় এই স্টেডিয়ামে। এ ম্যাচে এস্টন ভিলা কে ১-০ গোলে হারায় চেলসি।

ওয়েম্বলি নিয়ে কিংবদন্তি পেলে বলেন,
“ফুটবলের আতুরঘর হলো ওয়েম্বলি, এটা সেরার মধ্যে সেরা একটি স্টেডিয়াম “

  ফিচারঃ বাইশ গজের ব্যতিক্রমী কিংবদন্তি।

এরপরই ইংল্যান্ড ফুটবল ফেডারেশন নতুন ভাবে স্টেডিয়াম সংস্কার করার পরিকল্পনা করেন।

এর ফলে ২০০২ সালে এই স্টেডিয়ামের কাজ শুরু হয় যার নকশা করেন “ফোস্টার ও পার্টনারস” এবং “হুক স্পোর্টস”।

স্পোর্ট ইংল্যান্ডের ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে এর সার্বিক কাজ করে অস্ট্রেলিয়ান কোম্পানি “মাল্টিপ্লেক্স”।
২০০২-২০০৭ পর্যন্ত ৯০ হাজার দর্শক ধারণ ক্ষমতার সম্পন্ন এই স্টেডিয়াম তৈরিতে মোট খরচ হয় ৭৯৮ মিলিয়ন ইউরো। বর্তমানে যা দাড়িয়েছে ১.২ বিলিয়ন।

অক্টোবর ২০০৫।
ইংল্যান্ডের ক্রীড়া মন্ত্রী ঘোষণা দেন ২০০৬ সালের মে মাসে “ইংলিশ কাপ ফাইনাল” এই স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে।

তবে স্টেডিয়াম তৈরির ম্যানেজমেন্ট জানায় যে, তখন হস্তান্তর করলে কিছু টা রিস্কি হবে কাজ। তাই ম্যাচ অন্য কোথাও সরিয়ে নেওয়াই উত্তম।

৯ মার্চ, ২০০৭ সালে ইংল্যান্ড ফুটবল ফেডারেশনের কাছে স্টেডিয়ামের দায়িত্ব বুঝিয়ে দেয় অস্ট্রেলিয়ান কোম্পানি।

এরপর ঘোষণা করা হয় “মে” মাসে এফএ কাপের ফাইনাল এখানে অনুষ্ঠিত হবে তবে তার আগে স্টেডিয়ামের সামনে ইংল্যান্ডের কিংবদন্তি বিশ্বকাপ জয়ী ফুটবলার ও ক্যাপ্টেন ববি মুরের স্ট্যাচু তৈরি করা হয়।

২৪ মার্চ, ২০০৭ সালে প্রথম অফিসিয়াল ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়। এ ম্যাচে মুখোমুখি হয় ইংল্যান্ড অ-২১ ও ইতালি অ-২১ দল। ম্যাচটি ৩-৩ গোলে ড্র হয়।
প্রথম ক্লাব ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয় ১২ই মে ২০০৭ সালে।

এ ম্যাচে কিডেমিনিস্টার হ্যারিস ও স্টেভেনাজ বোরোগেত মধ্যকার ম্যাচে প্রথম প্লেয়ার হিসেবে এই স্টেডিয়ামে গোল করেন “জেমস কন্সট্যাবল”।
১৯ মে, ২০০৭ সালে এফএ কাপের ফাইনালে মুখোমুখি হয় ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড ও চেলসি। এ ম্যাচে মাঠে দর্শক উপস্থিত ছিল ৮৯,৮২৬ জন।
দিদিয়ে দ্রগবার একমাত্র গোলে ম্যানইউ কে হারিয়ে শিরোপা জিতে চেলসি। এরপর থেকে প্রতিবছর এফএ কাপের ফাইনাল এখানে আয়োজন করা হয়।

একই বছরের ৭ জুন প্রথম আন্তর্জাতিক ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয় নতুন এই স্টেডিয়ামে।
এই ম্যাচে ব্রাজিলের সাথে ১-১ গোলে ড্র করে ইংল্যান্ড। ইংল্যান্ডের ক্যাপ্টেন ও প্লেয়ার হিসেবে প্রথম গোল করেন জন টেরি।

  ফিচারঃ বাইশ গজের ব্যতিক্রমী কিংবদন্তি।

২০১১ সালের চ্যাম্পিয়নস লীগের ফাইনাল অনুষ্ঠিত হয় এই স্টেডিয়ামে। এ ম্যাচে মুখোমুখি হয় বার্সেলোনা ও ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড। এর ঠিক দুই বছর পর ২০১৩ সালে আবারও চ্যাম্পিয়নস লীগের ফাইনালের হোস্ট হয় এই স্টেডিয়ামে। এ ম্যাচে বরুশিয়া ডর্টমুন্ড কে হারিয়ে শিরোপা জেতে বায়ার্ন মিউনিখ।

২০১৯ এর সেপ্টেম্বর মাসে ঘোষণা করা হয় ২০২৩ সালের চ্যাম্পিয়নস লীগের ফাইনাল আবারও এই স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে।

এছাড়া ২০১২ সালের অলিম্পিক গেমসের ফুটবলের কয়েকটা ম্যাচ এই স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হয়। ২০১৭-১৯ এই দুই বছর ইংলিশ ক্লাব টটেনহ্যামের হোম গ্রাউন্ড ছিল এই ওয়েম্বলি।

ফুটবল ছাড়াও এই মাঠে রাগবি, বক্সিং ও ইংল্যান্ডের সবচেয়ে বড় কনসার্ট এখানে অনুষ্ঠিত হয়।

ওয়েম্বলির মত ফুটবল মাঠ ফুটবলের সৌন্দর্য্য আরও বৃদ্ধি করেছে। চোখ ধাঁধাঁনো এই স্টেডিয়ামটি ইতিহাসের পাতায় চির কাল উজ্জল তারার মত জ্বলে থাকবে।