ফিচারঃ সজল ভ্রুর গিরিপথে হারানো অতীত!

ফিচারঃ সজল ভ্রুর গিরিপথে হারানো অতীত!

  • 2.1K
    Shares

উপকূলীয় উপত্যকায় সবুজ ঘাসে ছাওয়া ভূমির পাহাড় চূড়ায় বসে, সদ্য যৌবন পেরিয়ে প্রৌঢ়ত্বের দুয়ারে সমাসীন এক ব্যাক্তি ছোট্ট নাতি-নাতনীদের খেলা দেখছিলেন! হঠাৎ লক্ষ্য করলেন ওরা কিছু একটা নিয়ে ঝগড়া করছে।

লাঠিতে ভর করে এগিয়ে গিয়ে, ঝগড়ার কারণ জিজ্ঞেস করলেন। উত্তরে ছোট্ট নাতনীটি বললো, দাদু ভাই! আমি বলেছি এই ম্যাচে আমি সাকিব হবো কিন্তু ভাইয়া মানতে নারাজ। সে বলছে সে নাকি এই ম্যাচেও সাকিব হবে! ওতো গত ম্যাচেও সাকিব ছিল এই বলেই বাচ্চা মেয়েটি কেঁদে দিল।

দাদু পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করলেন, সব মিটমাট করলেন। বললেন “তোমরা প্রত্যেকেই সাকিব। শুধু একেক ম্যাচে একেকজন সাকিব নাম নিয়ে খেলবে”। সবাই সম্মতি দিলে অতঃপর দাদু আবারও পুরনো স্থানে এসে বসলেন। আর আনমনে বলতে লাগলেন-

ওহে…প্রিয় বঙ্গভূমির নব্য প্রজন্ম! শোনো…

একদিন আমরা বৈধব্যের বসন আর জননীকুল শোকাহত মায়ের শাড়ি দেহে জড়াতো! চোখদ্বয় হতে বেদনার তপ্ত অশ্রু প্রবাহিত হতো। গুনীজন বা শিল্পীগণ কাঙালের মতো দ্বারে দ্বারে ধাক্কা খেয়ে পরদেশী কাব্য উপন্যাসে মন দিত!

ওহে বৎস! সজল ভ্রুর গিরিপথ দিয়ে হারানো অতীতকে খুঁজে দেখ! জানো কি দেখতে পারবে?

দেখতে পাবে প্রতি বাঙালী; হোক শিশু বুড়ো নর-নারী হৃদয়ে এই আকাঙ্খা নিয়ে নিদ্রা যেত- হায়! আগামীর শুভ্র ভোরে যদি এমন কারও সন্ধান পেতাম যে সূর্যের প্রখর দীপ্তি আর শক্তির পরাক্রম নিয়ে আবির্ভূত হবে!

যে আমাদের মহা নায়ক হবে; হবে আমাদের সম্মুখ যোদ্ধা। প্রস্ফুটিত হবে সোনালী ভবিষ্যৎ; প্রজন্ম হবে গৌরবান্বিত! কলমযোদ্ধাদের ভিনদেশী জিঞ্জির হটিয়ে স্বীয় স্বাধীনতার চাদরে ঢেকে নিবে; স্বীয় দেশী কাব্য লিখনে সুযোগ এনে পিপাসিত আত্নায় একটুখানি তৃপ্তির আভা দেবে!

কিন্তু হায়! প্রতিটি ভোর অধিকতর দুঃসহ ও ভারী হয়ে উদিত হতো; ২২ গজের বেদনায় পুরো জাতি নিস্তব্ধতায় ভুগতো! অবস্থাটা যেন, চাঁদনি রাতে পূর্ণিমার পত্রপল্লবহীনতার বেদনায় ক্রন্দনরত শুকিয়ে যাওয়া বৃক্ষের ন্যায়!

  ফিচারঃ বাইশ গজের ব্যতিক্রমী কিংবদন্তি।

প্রতিটি দিন অতিবাহিত হতো, প্রতি আত্মার এই প্রত্যাশা নিয়ে- এই বুঝি আসে কিনা ২২ গজের এমন বীর কান্ডারী, যে শক্তি আর সাহসে বিশ্ব পরাশক্তির মোকাবেলা করে এ দেশটাকে বন্দনায় মাতাবে; আনন্দে ভাসাবে! দেশের মানুষের মুখে হাসি ফুটাবে!

অবশ্য, মাঝে মাঝে ভোরের সূর্যে কিংবা রাতের অন্ধকারচ্ছন্নের দূর্লভ বাধা ডিঙ্গিয়ে কারও ঘোড়ার হ্রেষা ধ্বনিতে আলোর বিচ্ছুরণ প্রকাশিত হলেও তা প্রদীপ হয়েই থাকতো! তবে খানিকটা আশা সঞ্চার হয় আশরাফুলের আগমনে। কিন্তু হায়! প্রখর ঘ্রাণ ছড়ালেও তা ছিল মৌসুমী ফুলের ন্যায়!

তবে ইতমধ্যেই ঐতিহ্য উদয়নী সে সূর্যের আবির্ভাব ঘটেছিল; তবে তার রশ্মি তখনও লুকোনো! অবশেষে ৬ আগস্ট ২০০৬- এ স্বাধীনতার ৩৪ বছর পর বঙ্গের ২২ গজ পেলো তার স্বপ্ন কুমারের দেখা! যে স্বপ্ন পূর্ণতা পায় ২২ জানুয়ারি ২০০৯!

সেদিন বঙ্গদেশ বিশ্বের বুকে উঁচুশিরে দাড়িয়েছিল।
যে চোখে বেদনার তপ্ত অশ্রু প্রবাহিত হতো তাতে সেদিন আনন্দের দ্যুতি ছড়াচ্ছিল! সেই কাঙাল শিল্পী আর গুণীজন সেদিন আর ধাক্কা খেয়ে ফেরেননি বরং অনবরত গৌরবগাঁথা লিখেছেন কাব্য-উপন্যাসে!

বৈধব্য বসন আর শোকাহত শাড়ির পরিবর্তে, বঙ্গ নর-নারী লাল-সবুজের বাঘের পোষাক সেদিন দেহে জড়িয়েছিল; যার সম্মুখে প্রিয় বঙ্গদেশের নাম! আর পেছনে লিপিবদ্ধ ছিল – “সাকিব ৭৫”!

বৎস! তোমাদের বড়ই সৌভাগ্য- আমরা অপেক্ষায় থাকতাম নাম না জানা এক মহা নায়কের আগমনের; যার সম্পর্কে কোন ধারনাই ছিল না! আর তোমরা অপেক্ষায় আছো পরবর্তী একজন সাকিবের; যার সম্পর্কে তোমরা অবগত- সে বিশ্বসেরা!

এই পর্যন্ত ভাবতেই পিচ্চি মেয়েটি এসে দাদুকে ডাক দিয়ে বললো; দাদু কি বিড়বিড় করছিলে আনমনে? ঘরে ফিরবেনা? বেলা শেষ হলো তো!

 

শার্লক হোমস, বিশেষ প্রতিনিধি


  • 2.1K
    Shares