নাম্বার সেভেন সানজিদার একান্ত অবসরের আড্ডা ডেইলিস্পোর্টসের সাথে

নাম্বার সেভেন সানজিদার একান্ত অবসরের আড্ডা ডেইলিস্পোর্টসের সাথে

গারো পাহাড়ের পাদদেশ যখন ঘুমিয়ে থাকত ততক্ষণে ব্যাতিক্রম একজনের দিন শুরু হয়ে যেত সবার আগে। সে জানত তার লক্ষ্য অর্জন খুব একটা সহজ হবে না, ছুটে চলতে হবে পেছনে না ফিরে অনেক বাধা-বিপত্তি জয় করে।

ময়মনসিংহের আক্ষরিক মফস্বল কলসিন্ধু গ্রামে জন্ম নেওয়া সানজিদা আক্তারের কথা বলছিলাম। সীমান্তবর্তী অজঁপাড়া গাঁয়ের একটা মেয়ে কিভাবে হয়ে উঠলো দেশের সকল ফুটবল প্রেমীদের নয়নের মনি হয়ে সেই গল্পের কিছু চলুন আজ জেনে নিই।

সানজিদার ফুটবলার হওয়ার স্বপ্নের প্রথম বাঁধা ছিল নিজের পরিবারের সদস্যরাই। টিপ্পনি কাটত গ্রামের লোকজন, শুধুমাত্র ব্যতিক্রম ছিলেন একজন। যার স্নেহময় হাত ছিলো সানজিদার মাথায়। তিনি আর কেউ নন, তার বাবা।

ডেইলিস্পোর্টসের সাথে আলাপচারিতায় নিজের পছন্দের জিনিস ও হোম কোয়ারেন্টাইনে কি কি করছেন এগুলা নিয়েই কথা বলেছেন বাংলাদেশ ও বসুন্ধরা কিংসের নাম্বার সেভেন সানজিদা আক্তার। চলুন এবার যাওয়া যাক সানজিদার কথায়-

ডেইলিস্পোর্টসঃ কেমন আছেন?
সানজিদাঃ আলহামদুলিল্লাহ, ভাল আছি।

ডেইলিস্পোর্টসঃ হোম কোয়ারেন্টাইনে কেমন কাটছে দিন?

সানজিদাঃ এইতো বেশ ভালোই। পরিবারের সবাইকে নিয়ে আছি। সব সময় তো বাড়ির বাইরের থাকতে হয়। তাই এখন পরিবারের সাথে থাকতে পেরে খুব ভাল লাগছে।

ডেইলিস্পোর্টসঃ এখন তো খেলা নেই, ফিটনেস ধরে রাখার জন্য কি কি করছেন?

সানজিদাঃ তেমন কিছু করা হচ্ছেনা। আমাদের এলাকায় লক ডাউন তাই বাইরে যাওয়া হয় না। স্কুলের মাঠে এখন খেলাধুলাও বন্ধ আছে।

ডেইলিস্পোর্টসঃ ফুটবলার হয়ে উঠার পিছনে সবচেয়ে বড় অবদান কার?
সানজিদাঃ স্কুলের মজিদ স্যার ও বাবার অবদানটা সবচেয়ে বেশি। বাবা না থাকলে আজ এই জায়গায় আসতে পারতাম না। এছাড়া এলাকার মানুষদের প্রতি আমি কৃতজ্ঞ। তারা আমাকে বিভিন্ন ভাবে অনেক সাহায্য করেছে।

ডেইলিস্পোর্টসঃ ফুটবলার না হলে আপনি কোন পেশা বেছে নিতেন?
সানজিদাঃ অবশ্যই শিক্ষিকা হতাম। কেননা ছোট বেলা থেকেই আমি পড়াশোনায় বেশ ভাল। এছাড়া এই পেশায় সম্মানটাও অনেক বেশি।

ডেইলিস্পোর্টসঃ বাংলাদেশ মহিলা ফুটবল নিয়ে আপনার ভাবনা কি? কোন কোন দিকে আরো উন্নত করা দরকার?
সানজিদাঃ বাংলাদেশ মহিলা ফুটবল দল যেন আরো অনেক দূর এগিয়ে যায় সেই প্রত্যাশা করি। তবে বাইরের দেশগুলাতে জাতীয় দলে খেলতে হলে মিনিমাম ২০-২২ বছর হতে হয় কিন্তু আমাদের দেশে ১৬-১৭ বছরেই জাতীয় দলে অভিষেক করায়। এ ব্যাপারে বাফুফে যেনো একটু নজর দেয়।
আর প্রতিবছর যেন লীগ চালু রাখে সেটা চাই।

ডেইলিস্পোর্টসঃ ক্লাব ফুটবল ও জাতীয় দলে প্রিয় দল কোনটা?

সানজিদাঃ যেহেতু আমি ফুটবলার সেহেতু ভাল খেলা কেই সমর্থন করি সব সময়। তাই ক্লাব পর্যায়ে প্রিয় ক্লাব নেই। রিয়াল মাদ্রিদ, বার্সেলোনা সহ সবার খেলাই দেখা হয়। আর জাতীয় দলে ব্রাজিল সাপোর্ট করি তবে তেমন প্রকাশ করা হয় না। ২০১৪ সালে বিশ্বকাপ থেকে বাদ পড়লে খুব মন খারাপ হয়েছিল।

 

ডেইলিস্পোর্টসঃ ফুটবলে আপনার আইডল কে?
সানজিদাঃ অবশ্যই ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো।

যখন আমি খেলা শুরু করি তখন আমার স্কুলের কোচ আমাকে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো বলে ডাকত কারণ আমি রাইট উইং দিয়ে প্রচুর আক্রমণ করতাম।


পরবর্তীতে ন্যাশনালে পর্যায়ে আসার পর ৭ নাম্বার জার্সি তো স্থায়ী হয়ে গেছে।

ডেইলিস্পোর্টসঃ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আপনাকে নিয়ে অনেক মাতামাতি দেখা যায়।
ফ্যানরা আপনাকে উৎসাহ প্রদান করে আবার অনেকে আপনাকে পছন্দও করে। এগুলা দেখে কেমন অনুভূতি কেমন হয়?

সানজিদাঃ বেশ ভালোই লাগে। যখন কেউ আমাকে সাপোর্ট দেয় তখন অবশ্যই ভাল লাগারই কথা। তবে মাঝে মাঝে খারাপ লাগে। অনেকেই বাজে মন্তব্য করে তবে এখন আর এগুলায় কান দেইনা।

 

ডেইলিস্পোর্টসঃ আপনার প্রিয় খাবার কি?
সানজিদাঃ মায়ের হাতের যে কোন রান্না।

ডেইলিস্পোর্টসঃ আপনার প্রিয় মুভি কোনটা?

সানজিদাঃ ইংলিশ মুভি জুমানজি। এটা খুব ভাল লাগে।

ডেইলিস্পোর্টসঃ বর্তমানে যারা স্কুল পর্যায় বা বিভাগীয় পর্যায়ে খেলছে তাদের উৎসাহ দেওয়ার জন্য কি বলবেন?

সানজিদাঃ আমি কিন্তু অনেক কষ্ট করে এই পর্যায়ে এসেছি। আমার মত অধিকাংশ মেয়ে ফুটবলার ই অভাব পার করে ন্যাশনাল পর্যায়ে এসেছে। তাই এখন যারা বিভাগীয় পর্যায়ে খেলছে তাদের যেন পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হয়।

ডেইলিস্পোর্টসঃ করোনা ভাইরাস নিয়ে আপনার ফ্যানদের উদ্দেশ্যে কি বলবেন?

সানজিদাঃ বর্তমানে করোনা ভাইরাস তো খুব খারাপ পর্যায়ে চলে গেছে। তাই সবাইকে বলব, সাবধানে থাকবেন, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকবেন। ঘরের বাহিরে থাকবেন না।
নিজে সচেতন থাকুন,আশেপাশের সবাইকে সচেতন করুন।

পরবর্তী জেনারেশনের কাছে সানজিদার উঠে আসার গল্পটা ইন্সপাইরেশন হয়ে থাকবে, স্যালুট ঐ গর্বিত বাবাকে যার জন্য আজকে আমরা সানজিদার মত একজন ফুটবলার পেয়েছি।

দেশের প্রতিটা ঘর থেকে সানজিদারা উঠে আসুক অভয়ের মশাল হাতে সহযোদ্ধা হওয়ার জন্য দাড়িয়ে থাকা তাদের বাবাদের হাত ধরে।

CATEGORIES
TAGS